সোনাগাজীতে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে


ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৫হাজার উপকূলীয় এলাকার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট তাদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, গুড়, মুড়ি, বিস্কুট, চিড়াসহ বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর কখনও গুঁটিগুঁটি আবার কখনো মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে শুরু করে।
ঘূর্ণিঝড়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যক্ষেণ করতে গতকাল সকাল থেকে স্থানীয় সাংসদ লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে লোকজনের খোঁজখবর নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় উপজেলার উপজেলার সব সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সব কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও দূযোর্গকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল সকালে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংেকেত দেখানোর পর থেকে ঘূর্ণিঝড় ও দূর্যোগ মোকাবিলায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনাসহ জনগনকে সর্তক করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক মাইকিং করা হয়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় অর্ধশত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ উপজেলার সব কয়টি বিদ্যালয়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে এবং ১০টি চিকিৎসক দল, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। দূর্যোগকালী উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সিপিপির দেড়হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ২হাজার কর্মী মাঠে থেকে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, গতকাল দুপুরের পর থেকে উপজেলার চর চান্দিয়া, সোনাগাজী সদর, আমিরাবাদ ও চর দরবেশ ইউনিয়নের নদী উপকূলীয় এলাকার লোকজন নিকস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা চারটি ইউপির ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৫হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। রাতে মধ্যে উপকূলীয় বাসিন্দাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির কর্মসূচীর (সিপিপি) উপজেলা দল নেতা শান্তি রঞ্জন কর্মকার বলেন, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে উপজেলার সর্বত্র সিপিপির সদস্যরা কাজ করছেন। জেলেদেরকে দূর্যোগকালীন সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা, প্রতিটি এলাকায় সিপিপির সদস্যদের সহায়তায় জনগনকে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সর্তকতা ও গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *