ক্রীড়া সময় ডেস্ক : ফিজিওর পরামর্শ ছিল, মেডিকেল ছাড়পত্র না নিয়ে যেন লিগে না খেলেন সাইফউদ্দিন। অথচ চিকিৎসা না নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।

স্টিভ রোডস শুধু ‘ইউরেকা’ শব্দটিই বলেননি। নইলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সামনে রেখে তিনি যে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছিলেন, নিউজিল্যান্ড সফরে সেটির ছায়া ঠিকই দেখতে পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের মধ্যে। তাকে নিয়ে আশার জাল বুনছেন বাংলাদেশ কোচ। কিন্তু কোচের যা প্রত্যাশা, সেটি শেষ পর্যন্ত পূরণ করতে পারবেন তো সাইফউদ্দিন! এই সংশয়ে ছুটির মধ্যেও সম্ভবত অস্বস্তিতেই সময় কাটছে রোডসের।

ডান হাতে টেনিস এলবোর সমস্যায় ভুগছেন বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। কিন্তু চোট কাটিয়ে উঠতে যে বিশেষ ধরনের ইনজেকশনটি নেওয়া প্রয়োজন, প্রিমিয়ার লিগ খেলতে থাকায় তাকে সেটি দেওয়া যাচ্ছে না। ইনজেকশন দিলে পরের তিন সপ্তাহ খেলা যাবে না। আবার ইনজেকশন না দিলে সুস্থও হবেন না পুরোপুরি। পরিণতি, ব্যাটিং-বোলিং চালিয়ে নিতে পারলেও সমস্যা থেকে যাবে সাইফউদ্দিনের লম্বা থ্রোয়িংয়ে। প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী সে কারণেই তাকে ৩০ গজের বাইরে ফিল্ডিং করাচ্ছে না। ৩০ গজের বাইরে থেকে থ্রো করতে হলেও তিনি সেটি করছেন আন্ডার আর্মে। কিন্তু বিশ্বকাপ তো আর প্রিমিয়ার লিগ নয়। অর্ধেক সুস্থ নয়, সেখানে পুরো সুস্থ খেলোয়াড়কেই প্রয়োজন। তা ছাড়া শরীরে অসুখ পালতে থাকলে সেটি অনেক সময় নানা দিকে ছড়ায়। সাইফউদ্দিনের টেনিস এলবোর সমস্যা আক্রান্ত করতে পারে তার ব্যাটিং-বোলিং ক্ষমতাকেও।

সূত্র জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ড সফর থেকে দল দেশে ফেরার পর জাতীয় দলের ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহন খেলোয়াড়দের নিয়ে যে রিপোর্ট পাঠান, তাতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া ছিল সাইফউদ্দিনের ব্যাপারে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মেডিকেল ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত যেন তিনি লিগে না খেলেন। অন্য খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করার জন্য দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হলেও সাইফউদ্দিনের বিশ্রামের মূলে ছিল টেনিস এলবোর চোট। বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারোই অজানা নয় সেটি।

এ নিয়ে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, ‘সাইফউদ্দিন যে ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলছে, সেখানেও ফিজিও এবং মেডিকেল স্টাফ আছে। তাঁরা নিশ্চয়ই তাকে ভালোভাবে দেখছেন, তার দিকে খেয়াল রাখছেন।’

ফিজিওর সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকার পরও সাইফউদ্দিন কেন ইনজেকশন না নিয়ে লিগ খেলছেন, এ ব্যাপারে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ই-মেইলে জানতে চাওয়া হয় জাতীয় দলের কোচ স্টিভ রোডসের কাছে। তিনিও বিষয়টি এড়িয়েই গেছেন। রোডস ফিরতি মেইলে লেখেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনার প্রশ্নগুলোর জবাবে আমি শুধু নো কমেন্টই বলতে পারি। আমি সাধারণত চেষ্টা করি সাংবাদিকদের সাহায্য করতে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমাকে শুধু নো কমেন্টই বলতে হচ্ছে।’ তবে রোডস যে সবার কাছেই তাঁর অসন্তোষ-হতাশা গোপন করছেন, তা নয়। তার চোখে সাইফউদ্দিন হবেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তুরুপের তাস। তার ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে অনেক পরিকল্পনা কোচের। সেই সাইফউদ্দিন ঝুঁকি নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ায় কোচ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিসিবিতে তার ঘনিষ্ঠদের কাছে। বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ে।

অথচ ফিজিওর রিপোর্ট পেয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সাইফউদ্দিনকে ইনজেকশন দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিসিবির চিকিৎসকেরা। যত দ্রুত সম্ভব ইনজেকশন না দিলে যে বিশ্বকাপের আগে সুস্থ হবেন না তিনি! কিন্তু এরপর থেকে ঘটতে থাকে সব উল্টো ঘটনা। নিউজিল্যান্ড-ফেরত বেশির ভাগ খেলোয়াড় দুই সপ্তাহের বিশ্রাম পেলেও সাইফউদ্দিন বিশ্রামে থাকতে পারেননি এক সপ্তাহও। ২০ ফেব্রুয়ারি ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে খেলার পর দেশে ফেরেন ২২ ফেব্রুয়ারি। এর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় ২৭ ফেব্রুয়ারি আবাহনীর হয়ে খেলতে নেমে যেতে হয় প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাচে। সাইফউদ্দিন প্রিমিয়ার লিগেও এর মধ্যে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন আটটি।

আবাহনীর ফিজিও এনামুল হকের দাবি, সাইফউদ্দিনের অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো, ‘আগে ওর কনুইতে টেপ লাগিয়ে বোলিং করা লাগত। এখন টেপ লাগাতে হয় না। সমস্যা শুধু দূর থেকে থ্রো করাতে। সে জন্য আমরা ওকে ৩০ গজের ভেতর ফিল্ডিং করাই।’ আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদের প্রশ্ন আছে সাইফউদ্দিনের চোটের মাত্রা নিয়েই, ‘ওর সমস্যা কতটুকু সিরিয়াস, সেটা আমি জানি না। তবে আমার মনে হয় মারাত্মক কিছু নয়। এ রকম সমস্যা মিরাজেরও আছে।’ বিশ্বকাপ সামনে রেখে সাইফউদ্দিনের লিগ খেলার চেয়ে টেনিস এলবোর চিকিৎসা করানো জরুরি ছিল কি না, জানতে চাইলে তার মন্তব্য, ‘আমার মনে হয় না ইনজেকশন দেওয়ার দরকার আছে। ও ওয়েট ট্রেনিং করছে, জিম করছে...এগুলোতেই ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।’

আর সাইফউদ্দিন? নিজের অবস্থা নিয়ে তিনি কী বলেন? সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একটু অসহায়ই শোনাল তার কণ্ঠ, ‘পেস বোলারদের তো এসব সমস্যা নিয়েই খেলতে হয়। আমার এখন ব্যাটিং-বোলিংয়ে সমস্যা হচ্ছে না। শুধু লং থ্রোয়ে সমস্যা হয়। তবে এখন তো ইনজেকশন দেওয়ার মতো সময় হাতে নেই। এ নিয়েই খেলতে হবে...।’ বিশ্বকাপ দলে থাকলে কি তবে পুরো সুস্থ সাইফউদ্দিনকে পাবে না বাংলাদেশ!

antalya escort bursa escort adana escort mersin escort mugla escort samsun escort konya escort