স্টাফ রিপোর্টার : সংঘর্ষ-ভাংচুরের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির নির্বাচনে দুটি প্যানেলের মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। একপর্যায়ে রাজধানীর তোপখানা রোডের ট্রপিকানা টাওয়ারের সমিতি কার্যালয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এনিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বর্তমান সভাপতি ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিকিৎসক নেতা ডা. হুমায়ুন কবীর বুলবুলের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের পক্ষে সহ-সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ইফতার শেষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসে ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন ভূঞা ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন আরেকটি প্যানেল।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের অভিযোগ, বর্তমান সভাপতি স্বপন চৌধুরী বিপুল সংখ্যক বহিরাগত এনে পূর্ব থেকে সমিতি কার্যালয় দখল করে রাখে। জাহিদ-সেলিম প্যানেল মনোনয়ন জমা দিতে আসলে তারা বাধা দেয়। এনিয়ে বাকবিতন্ডা ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তাদের ধাওয়ার মুখে স্বপন চৌধুরী সমর্থকরা সমিতি কার্যালয় ছেড়ে দেয় বলে সেলিম জানান।

এদিকে ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন জানান, জাহিদ ও সেলিম বিপুল সংখ্যক বহিরাগত নিয়ে সশ্রস্ত্র অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার পর সমিতি কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসলে কয়েকজন সদস্য অস্ত্রশস্ত্র ও বহিরাগত উপস্থিতি দেখে প্রতিবাদ করে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পরে আসায় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবের অনুপস্থিতিতে একজন সদস্য মনোনয়নপত্র জমা নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে জমা নিতে বাধ্য করা হয়। এনিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কয়েকজনকে বেদম মারধর করা হয়। এসময় কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও তিনি জানান। বহিরাগতরা সমিতি কার্যালয় ভাংচুর করে। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

প্রসঙ্গত; আগামী ২৯ জুন শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিল টিএন্ডটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহনের দিন ধার্য রয়েছে। সমিতি নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মোস্তফা আজিজ মনছুর রনজু ও সদস্য সচিব ওয়াহিদ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত তফসিল অনুযায়ী ৬ ও ৭ জুন যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জুন খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৯ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ জুন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।