লিটন সাঈদ :

সারা বিশ্বে শ্রম অভিবাসী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম এবং রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশে হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এখন নবম। এ ছাড়াও এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে বাংলাদেশী মোট শ্রম অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় সোয়া কোটি। প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ শ্রমিক সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মের সংস্থানের পাড়ি জমাচ্ছে।

গত বছর ১০ লক্ষ্যের ও অধিক মানুষ কর্মের সংস্থানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রম অভিবাসী হিসেবে গমণ করেছে। এই সকল শ্রমিকরা ভাগ্য পরিবর্তনের অনিঃশেষ স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু জাল ভিসা, অদক্ষতা, ভাষা জ্ঞান না থাকা, স্বাস্থ্য ঝুকি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বল্প মজুরি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, চুক্তিপত্রে অসঙ্গতি ইত্যাদি নানা কারণে এই সকল নিরীহ ও দরিদ্র মানুষের একটা অংশ প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

অভিবাসী হতে ইচ্ছুক শ্রমবাসীরা যাতে প্রতারণার শিকার না হন সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতেই এবার তথ্যচিত্র নির্মাণ করলেন বিতর্ক অনুষ্ঠান নির্মাতা, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অভিবাসন খাত নিয়ে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার নিরিখেই তিনি তথ্যচিত্রটি নির্মাণে চিত্রনাট্য, সংলাপ ও নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্মিত তথ্য চিত্রে অভিনয় করেছেন জাতীয় পুরুস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, অভিনেতা আহসানুল হক মিনু ও সোহেল খান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তথ্যচিত্রটি পুবাইলের হাসনা হেনা সুটিং স্পটে চিত্রায়িত হয়।

নির্মাতা হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের মতে, দেশের বেশিরভাগ শ্রম অভিবাসী হতে ইচ্ছুক মানুষই জানে না বিদেশে কাজের জন্যে গেলে কি কি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ফলে অনেকেই না জেনে বুঝে অন্ধের মতো দালালদের খপ্পড়ে পড়ে বিদেশে কাজ করতে যায়। এরপর বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসে। কর্মস্থলে অনেক সময় বেতন না পাওয়া, অধিক সময় কাজ করা, নির্যাতন, মারধরসহ নানা অত্যাচারের শিকার হতে হয় অভিবাসীদের। নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক কর্মী খালি হাতে দেশে ফিরেও এসেছে।

তিনি বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই বৈধ চুক্তিপত্র, ভিসার কপি, বেতন, কর্মস্থলের পরিবেশ, সর্বোপরি সুরক্ষা-এগুলো সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করেই বিদেশ যেতে হবে। যা এই তথ্যচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ অভিবাসনের বিকল্প নেই। তাই তথ্যচিত্রটি সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য তথ্যবহুল ও শিক্ষণীয় হবে। এ ধরনের তথ্যচিত্রের বহুল প্রচার সাধারণ জনগণের মাঝে অভিবাসন বিষয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করবে।

তথ্যচিত্রটি বিশ্বকাপ খেলার সময় সহ বিভিন্ন টেলিভিশনে দেখা যাবে।