আলী হায়দার মানিক/ সাঈদ হোসেন সাহেদ : আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নৌকার মালিক শেখ হাসিনা, যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করতে হবে। ডিসেম্বর মাসে ফাইনাল খেলা হবে। নির্বাচনের ৩ মাস আগে নির্বাচন কমিশন সকল কাজ করবেন। আগামী নির্বাচন হলো চ্যালেঞ্জের নির্বাচন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের জন্য লড়াই করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত এখনো সক্রীয় আছে। ডিসি ও এসপিরা নির্বাচন কমিশনের কথামত কাজ করবেন। আমাদের কথায় চলবে না। ক্ষমতা আল্লাহর নেয়ামত। আজ আছি, কাল নাও থাকতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, সামনে মহাবিপদ একসাথে থাকতে হবে। শেখ হাসিনা হ্যাট্টিক করবেন, হ্যাট্টিক। ক্ষমতায় থাকলেও ১৪ দল থাকবে আবার না থাকলেও ১৪ দল থাকবে। মালয়েশিয়া গত দুই দিন আগে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে ড. মাহথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। ড. নাদিম বহুবছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার অধীনে নির্বাচন হয়েছে। জনগণ ভোটে মাহাথির জয়লাভ করেছেন। আমরা ১০ বছর ক্ষমতায় আছি কিন্তু কুমিল্লায় আমাদের মেয়র হেরে গেছে। তত্ত্বাবদায়ক সরকার এক সময় ছিলো। বেগম জিয়া নিজেই ২০০৭ সালে প্রফেসর ইয়াজ উদ্দিনকে জোর করে ক্ষমতায় বসিয়ে তত্ত্বাবদায়ক সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। আপনার জন্য জনগণ আন্দোলন করবে না। তাই শেখ হাসিনা বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারের অধীনে ভোট হচ্ছে। আমাদের দেশে হতে অসুবিধা কি। জনগণ ভোট দিবে। যে জিতবে সে সরকার গঠন করবে তাতে অসুবিধা কি।

গতকাল রবিবার বিকালে ফুলগাজী উপজেলার নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৪ দলের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, জাসদ সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার, ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা: শাহাদাত হোসেন, ন্যাপ মোজাফফর যুগ্ম-সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা জাসদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল বারী।

নাসিম আরো বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিলো সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট এক সঙ্গে জালাও পোড়াও শুরু করেছিল। তারা নির্বাচন করতে দিবে না। আপনারা সবাই জানেন সেদিন শেখ হাসিনা বলেছিলেন বেগম জিয়া গণভবনে আসেন। আলোচনা করে দেখি কিভাবে নির্বাচন করা যায়। এ কথাও বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন বেগম জিয়া। নির্বাচন এক সঙ্গে করি। কিন্তু তারা জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে। আমরা নির্বাচন করলাম। বাংলার মানুষ ভয়ভীতির মধ্যেও ভোট দিয়েছে। নির্বাচন না হলে আজ আমরা এখানে আসতে পারতাম না। আমরা মন্ত্রী এমপি হতে পারতাম না। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে আজ দেশে মার্শাল ল’ জারি থাকতো। শেখ হাসিনা মার্শাল ল’ বন্ধ করেছেন।

দিলীপ বডুয়া বলেন, মাতৃস্নেহময়ী ও মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে হচ্ছে বাংলাদেশের গনতন্ত্র উন্নয়ন। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মহাকাশে উড়ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। আগামী সংসদ নির্বাচনে জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

শিরীন আখতার এমপি বলেন, আমরা ফুলগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০শয্যায় উন্নীত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং করে যাব। অনেকে বলে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কারণে খালেদা জিয়াকে জেলে দিয়েছে। কিন্তু সেটা মিথ্যা। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে জেলে গেছেন। সে জেল থেকে বের হবে কিনা, সেটা আদালতের বিষয়। হাজীরবাগনা, মহামায়া ব্রীজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। শেখ হাসিনা সরকার স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, থানা পুলিশ, হাসপাতাল, পরিবার পরিকল্পনা ও কমিনিউটি ক্লিনিকের উন্নয়ন করেছে। বিলোনিয়া স্থল বন্দর ও বর্ডার হাট সহ ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি করেছি।

এর আগে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরন কাজের ও ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, সিভিল সার্জন ডা: হাসান শাহরিয়ার কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।