ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ ###

পিত্তথলীতে পাথর জমা হওয়াকে পিত্ত পাথরী বলে। এতে নাভি প্রদেশে দারুন শূল বেদনা হয়। আর এটি অতি কষ্টদায়ক ব্যাধি এবং সোরাদোষ হইতে উৎপন্ন। সোরা দোষ হইতে আমাদের পিওকোষ বালুকোণা হইতে আরম্ভ করিয়া বড় প্রস্তর খন্ড পর্যন্ত সঞ্চয় হয় ও সেই সময় মধ্যে মধ্যে, পেটে নাভিমন্ডলের উপরে, দক্ষিণদিকে অল্পাধিক বেদনা উপস্থিত হয়। কিন্তু যে সময় ঐ সঞ্চিত প্রন্তরখন্ড পিত্তবহা নালী পথে বহির্গমনের জন্য আসিতে থাকে, তখন অতি ভয়ানক বেদনা অনুভূত হয় এবং রোগী যন্ত্রণায় অধীর হইয়া উঠে। বর্তমান যুগে পিত্ত পাথরীর প্রকোপ প্রচন্ড রূপে দেখা দিয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর কিছু কিছু রোগী আরোগ্য লাভ করলেও এদের মধ্যে অনেক রোগী পরবর্তীতে ক্যান্সার, জন্ডিস, বি- ভাইরাস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

কারণ : শারীররিক বিধিশুদ্ধ নিয়মানুসারে পিত্তকোষ হতে সঞ্চিত পিত্তরস পিত্তনালী দিয়ে ক্রমে ক্রমে ক্ষুদ্রান্তের প্রথমাংশ বা ডিউডেনামের মধ্যে প্রবাহিত হয়। আহারাদির দোষে অথবা পিত্তকোষের বা পিওনালীর প্রদাহজনিত কারণে এই পিত্তপ্রবাহ বিঘিœত হতে পারে, ইহার ফলে পিওরস জমাট বেঁধে যায় এবং ধীরে ধীরে পিত্তপাথরী দেখা দেয়। যদি পিওপাথরী খুব ছোট হয় বা বালু কণার মত থাকে তা অনেক সময় আপনা থেকেই বেরিয়ে যায় এবং কখন বেরিয়ে যায় তা ঠিক বুঝা যায় না। তবে পিত্তপাথরী আকারে বড় হলে বেরিয়ে যেতে পারে না তখন বেদনার সৃষ্টি হয় এবং রোগী কষ্ট পায়।পিওকোষ অঞ্চলে মাঝে মাঝে ব্যথা এই লক্ষণটি দেখে অনেক সময় রোগটি ধরা যায়।

লক্ষণ : ১) প্রচন্ড বেদনা ডান কুক্ষিদেশে হতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষ করে ডান ঙ্কন্ধ ও পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচন্ড বেদনায় রোগী ছটফট করে এবং অস্থির হয়ে পড়ে। ২) অনেক সময় বেদনার সঙ্গে বমি, পিত্ত বমি হয়ে থাকে। ৩) বেদনার সংগে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়, নাড়ী দুর্বল হয়, ছটফট ভাব এবংহিমাঙ্গের ভাব দেখা দেয়, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। ৪) অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস রোগ এবং দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায় ৫) পিত্তকোষ হতে যদি পাথর না বের হয়ে যায় তবে শেষ পর্যন্ত হোমিওচিকিৎসা না নিয়ে অপারেশন করে বের করার ব্যবস্থ্য করতে হয় নতুবা রোগী ক্রমাগত কষ্ট ভোগ করতে থাকে।

হোমিওপ্রতিবিধান : রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়, এইজন্য একজন অভিজ্ঞ হোমিওচিকিৎসকে রোগীর ধাতুগত লক্ষণ মিলিয়ে চিকিৎসা দিতে পারলে তাহলে পিত্ত- পাথরী ছোট হোক আর বড় তাহলে আল্লাহর রহমতে হোমিওতে সম্ভব।

হোমিওচিকিৎসা : প্রাথমিক ভাবে যেই সব ঔষধ লক্ষণের উপর আসতে পারে, কোলেষ্টেরিনাম, কার্ডুয়াস মেরিয়েনাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব, আর্ণিকা, চেলিডোনিয়ান, সিওন্তাস, চায়না, ডিজিটেলিস, হাইড্রাসটিস, ডায়োঙ্কোরিয়া সহ আরো অনেক মেডিসিন লক্ষণের উপর আসতে পারে, তাই ঔষধ চিকিৎস ছাড়া নিজে নিজে ব্যবহার করলে রোগ আরো জটিল আকারে পৌঁছতে পারে।

লেখক : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক।