অনলাইন ডেস্ক নিউজ

ফেনীর পাইকারি আড়তে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার পান বিক্রি হয়। জেলার ৬ উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলায় পানের সরবরাহ হয় এখান থেকে। সরেজমিন শহরের বৃহৎ পানের আড়ৎ মজিদ মিয়ার বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এ চিত্র জানা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছন, ফেনীর আড়তে দেশীয় বাংলা পান এলসি, কুষ্টিয়া ও বরিশালের পান বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় পান কম থাকায় জেলার ১৯টি পাইকারী আড়তে পান আসার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যায়। পানের আড়ৎদার মো: ওসমান জানান, শীত মৌসুমে আবহাওয়ার কারনে দেশের পানের বরজে পানের উৎপাদন কমে যায়। একেক মৌসুমে এক ধরনের পান উৎপাদন বাড়ে ও কমে। চাহিদানুযায়ী সরবরাহ কম হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করতে হয়।
জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা সহ পাশ্ববতী নেয়াখালী, চৌদ্দগ্রাম, ফটিকছড়ি, রামগড়, মটিরাঙ্গা, মিরসরাই সহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের খুচরা বিক্রেতারা এ আড়ৎ থেকে পান সংগ্রহ করা হয়। মজিদ মিয়ার বাজারের পাইকারী আড়তে প্রতি বিড়া দেশীয় বাংলা পান বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ১শ ৭০ টাকায়। ভারতীয় এলসি সর্বনিম্ন ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায়, কুষ্টিয়ার পান সর্বনিম্ম ৬০ থেকে ১১০ টাকা, রাজশাহীর পান বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ম ৬০ থেকে ১১০শ টাকায়। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয় এ বাজারে। এছাড়া সোনাগাজীর চরচান্দিয়া চরমজলিশপুর কেম্পানীগঞ্জ, মহেশখালী, বরিশালের গৌরনদী, আফালঝরা, উজুপুর, কানকিনি, নেয়াখালীর রায়পুর, খুলনার বাগেরহাট, মোল্লার হাট, যশোরের ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ, কালিগঞ্জ, সিলেট, টেকনাপের পান সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পান চাহিদা মত বিক্রি হয়।
আড়ৎদার ওসমান আরো জানায়, বর্ষা মৌসুম আসা পর্যন্ত পানের উৎপাদন প্রতি বছরই কম থাকে। এ মৌসুমে এলসি করা পান দিয়ে চাহিদা মেটানো হয়। বৃষ্টির সাথে সাথে মহেশখালীর মিষ্টি পান, কক্সবাজার টেকনাফের মন্টু পান বিক্রি হয়। ফেনীর আড়তে সপ্তাহের শুক্র ও মঙ্গলবার দুইদিন আড়ৎ বন্ধ থাকে। এ দুই হাটে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়।
আমদানি কারক মো: কামরুল ইসলাম ফেনীর সময় কে জানান, চলতি মৌসুমে ভারত থেকে প্রায় প্রায় ১ কোটি টাকার পান আমদানি করা হয়েছে। এ পান দিয়ে ফেনীর চাহিদা পূরন করা হয়। দেশি পানের ঘাটতি হলে তারা ভারত থেকে এলসি করেন। তবে দেশীয় পান উৎপাদন বেড়ে গেলে তা বন্ধ হয়ে যায়।