অথার নাম

আরিফ আজম : ফেনীতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে স্কুল ব্যাংকিংয়ের একাউন্টের ও সঞ্চয় স্থিতি। ইতিমধ্যে জেলার ২৬টি ব্যাংকে একাউন্ট (হিসাব) ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। একইসাথে সঞ্চয় স্থিতি রয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি। এ তালিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সোনালী ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সুবিধা ও তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবার সঙ্গে ২০১০ সালের ২ নভেম্বর স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সাল থেকে এর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে. ২০১৭ সাল পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকে ৪ হাজার ৭শ ২০টি একাউন্ট (হিসাব) খোলা হয়। তখন স্থিতি ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ১শ ২ টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের সবকটি শাখায় ১ হাজার ৭শ ৮১টি হিসাবের বিপরীতে ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার, ইউসিবিল লিমিটেডে ৭টি হিসাবের বিপরীতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩শ ৭৭, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে ৩৫টি হিসাবের বিপরীতে ৩ হাজার ৫শ, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডে ১শ ১৬টি হিসাবের বিপরীতে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪শ ৬, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডে ১৮টি হিসাবের বিপরীতে ৫ লাখ ১৯ হাজার ৬শ ৬০, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩শ ৭১টি হিসাবের বিপরীতে ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৮শ ৫৪, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে ৩৫টি হিসাবের বিপরীতে ৭০ হাজার ৯শ ৮০, সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডে ৩০টি হিসাবের বিপরীতে ৫১ হাজার ৬শ ৫৪, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডে ৫টি হিসাবের বিপরীতে ৬ লাখ ৪১ হাজার ৩শ ৬৮, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডে ৫টি হিসাবের বিপরীতে ২১ হাজার ৮শ ৪০, মিচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেেেড ১শ ৫০টি হিসাবের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৭শ, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডে ৪৫টি হিসাবের বিপরীতে ৪২ হাজার ১শ ৯২, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডে ৪৫টি হিসাবের বিপরীতে ১০ হাজার ৫শ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডে ১৭টি হিসাবের বিপরীতে ৫১ হাজার ৬শ ৮৪, এবি ব্যাংক লিমিটেডে ৬টি হিসাবের বিপরীতে ৫ হাজার ৪শ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডে ১২টি হিসাবের বিপরীতে ২শ ৯০, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডে ৫টি হিসাবের বিপরীতে ১ হাজার ৪শ, অগ্রনী ব্যাংক লিমিটেডে ৭টি হিসাবের বিপরীতে ৭শ, মিচ্যুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেডে ৪শ ৩২টি হিসাবের বিপরীতে ১২ হাজার ৬শ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে ৪১টি হিসাবের বিপরীতে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮শ ৬৪, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডে ৭শ ৯৬টি হিসাবের বিপরীতে ৯ লাখ ৩ হাজার ৮শ ৩, জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ৪শ ৫৫টি হিসাবের বিপরীতে ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার, পুবালী ব্যাংক লিমিটেডে ১টি হিসাবের বিপরীতে ১ হাজার ৪শ, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে ৫০টি হিসাবের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮শ ৩০, ইষ্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে ২শ ৫০টি হিসাবের বিপরীতে ৭৪ লাখ ৬৪ হাজার ও যমুনা ব্যাংক লিমিটেডে ২টি হিসাবের বিপরীতে ৩ হাজার ১শ টাকা জমা রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জেলায় সোনালী ব্যাংকের ১৭টি শাখায় হিসাব খোলা হয়েছে ২ হাজার ৯শ ৫৩টি। এর বিপরীতে স্থিতি রয়েছে ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে সর্বাধিক স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে। জেলার ৪টি শাখায় ১শ ৮৭টি হিসাবের স্থিতি রয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২শ ৫২ টাকা। দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর শাখাতেই ১শ ২২টি হিসাব খোলা হয়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফেনী শাখায় চলতি বছরে একাউন্ট খোলা হয় ৩৫টি। এর বিপরীতে স্থিতি রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬শ টাকা। ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ১শ ৮২টি হিসাবের বিপরীতে ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ফেনী শাখায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৪২৩টি একাউন্ট খোলা হয়। এর বিপরীতে স্থিতি রয়েছে ১৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত খোলা ৫টির বিপরীতে স্থিতি রয়েছে ১২ হাজার ৬শ ১৯টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাউন্ট খোলার দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক। এরপরই রয়েছে মিচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও ইষ্টার্ন ব্যাংক।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী অর্থাৎ ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা তাদের বাবা-মা অথবা বৈধ অভিভাবকের সঙ্গে যৌথ নামে একাউন্ট খুলতে পারে। মাত্র ১শ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে বেশিরভাগ ব্যাংক শাখায় এ হিসাব খোলা যায়। এ হিসাবে কোনো ফি বা চার্জ আরোপ করা হয় না। এমনকি ন্যূনতম স্থিতি রাখার বাধ্যবাধকতাও নেই।

এ ব্যাপারে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মারুফ আল হাসনাত ফেনীর সময় কে বলেন, স্কুল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলার কারনে ব্যাংকিং কার্যক্রমের উপর জানার সুযোগ হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের মনোভাবের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতায় পড়াশোনায়ও আগ্রহী হবে।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ফেনীর সময় কে বলেন, স্কুল ব্যাংকিং করার উপযোগি শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এক্ষেত্রে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা সহজে উত্তোলন সহ সার্বিকভাবে লাভবান হয়।