আলী হায়দার মানিক

দৈনিক ফেনীর সময় সাংবাদিকতার পাঠশালা। আমি সেই পাঠশালার একজন নিয়মিত ছাত্র। সে পাঠশালার শিক্ষক সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। তিনি দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে এ জনপদে সাংবাদিকতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখান থেকেই সাংবাদিকতা শিখে আজ অনেকে জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকা সম্পাদনা কাজে জড়িত রয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন সম্পাদক। যে ঠিকানায় আমার সাংবাদিকতা জীবন শুরু সেই ঠিকানাকেই জীবনের শেষ ঠিকানা মনে করি। সাংবাদিকতার সূতিকাগার খ্যাত ছোট্ট জেলা ফেনী। জেলাটি মানচিত্রে ছোট্ট হলেও বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। যে শহর থেকে দৈনিক পত্রিকা বের করা ছিলো একসময় দু:স্বপ্ন, সেটি আজ বাস্তবে পরিণত করেছেন আমার পেশাদারিত্বের শুধু গুরু নয়, বাস্তব জীবনেরও অভিভাবক তিনি হলেন জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। আমার শ্রদ্ধেয় পিতা জনাব আবুল খায়ের পাটোয়ারী ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করার পর থেকে শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে অভিভাবক হিসেবে জানি। তিনি এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবী সংবাদকর্মী নিয়ে ২০০৯ সালের ১৭ জুন ‘দৈনিক ফেনীর সময়’ উদ্বোধনী সংখ্যা প্রকাশ করেন। ধীরে ধীরে পত্রিকাটি পাঠকদের মন জয় করে আস্থা অর্জন করছে। পত্রিকাটি আজ এ জনপদের সমস্যা সম্ভাবনার পাশাপাশি নির্যাতিত মানুষের অস্থার ঠিকানা। সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাধে অনেক স্মৃতির মাঝে একটি স্মৃতি বারবার মনে পড়ে। সেটি হলো ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের সংবাদ সংগ্রহ করতে মোটরসাইলে নিয়ে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার পথে সাহেব বাজার সংলগ্ন সড়কে দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হই। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি অবশ্য অচেতন ছিলাম। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর তৎকালীন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব আসাদুজ্জামান দারা ভাই ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বন্ধু জহিরুল হক মিলন ছুটে যায়। কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালে ছুটে যান তৎকালীন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল ভাই। তখনো আমি অনেকটা অচেতন। কিন্তু দারা ভাইর শব্দ শুনে আমি বলতে থাকি ‘দারা ভাই, মিলন আমাকে বাঁচান’। সেই স্মৃতি আজও মনে পড়ে। আহত হওয়ার খবর শুনে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ছুটে যান তৎকালীন ফেনী পৌরসভার জননন্দিত মেয়র ও বর্তমান ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ আহম্মদ চৌধুরী, তৎকালীন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিষ্টার ও পৌর সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল, স্টার লাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আলাউদ্দিন। এছাড়াও সহকর্মী সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান। সুস্থ হওয়ার পর অনুভূতিতে আসে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকার কারনেই ভিআইপিরা তখন হাসপাতালে আমাদেরকে দেখতে যান। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার সাথে আহত হয়েছে দৈনিক ফেনীর সময় বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক জিয়াউল হক সোহেল। পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে আজ পুরো ফেনীবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতায় শীর্ষে অবস্থান ফেনীর সময়। পত্রিকাটি ঘোষণাপত্র ১৭ মার্চ তৎকালীন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোমিনুর রশীদ আমিন সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন। সেদিন আমিও উপস্থিত থেকে ইতিহাসের অংশ হয়েছি।  সে থেকে অধ্যবধি পত্রিকাটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছি, আছি এবং থাকবো এটাই প্রত্যাশা। শুধু তাই নয় ২০০৫ সালের ৩০ অক্টোবর শ্রদ্ধেয় জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সম্পাদিত সাপ্তাহিক আলোকিত ফেনীর উদ্বোধনী সংখ্যা থেকে সাংবাদিকতা পেশায় আমার বিচরণ শুরু হয়। ২০১৪ সালে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এশিয়ান টিভিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রশ্ন করেন আপনিতো একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক এ ছোট পদে কাজ করবেন। উত্তরে আমি বলেছি করবো। একইভাবে ২০১৫ সালে দৈনিক আজকের পত্রিকার ফেনী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময় একই প্রশ্নের সম্মুখিন হই। তখন নিজেকে গর্ববোধ মনে করি। আজ এ শুভক্ষণে দোয়া চাই আমাদের অগণিত পাঠকসহ ফেনীবাসীর। যাদের আস্থা ও ভালোবাসায় আমার এতটুকু আসা। সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে থাকতে চাই সহকর্মীসহ সকলের মাঝে।

লেখক : সহকারি সম্পাদক, দৈনিক ফেনীর সময়।

antalya escort bursa escort adana escort mersin escort mugla escort samsun escort konya escort