আলী হায়দার মানিক :
সমস্যায় জর্জরিত ফেনী সরকারি কলেজ ও সরকারি পাইলট হাই স্কুলের সংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছেন সরকারের সচিব ও পরিকল্পনা কমিশন সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার পরিদর্শন করে ঐতিহাসিক এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরাতন দ্বিতল ভবনের মূল কাঠামো অক্ষুন্ন রেখে পুণনির্মান ও সংস্কারের আশ্বাস দেন তিনি। এসময় তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালাকে ভবন দুটির সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর সাথেও তিনি মতবিনিময় করেন। এছাড়া জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব পারভীন আক্তার, ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, ফেনী সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ, সোনাগাজী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী, ফেনী পৌরসভার মেয়র হাজী আলাউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। একইসাথে সোনাগাজী সরকারি কলেজের ৬তলা ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিগত ২০০৭ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফেনী সরকারি পাইলট ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ভবনটিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে তালা বন্ধ পরিত্যক্ত ভবনটি। এখন ভেতরে ইঁদুর আর চামচিকের বাস। ভ্যাপসা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, স্থানে স্থানে ফাটল, বেরিয়ে পড়ছে, তার স্থলে আগাছা জন্মে ক্ষয়ে ক্ষয়ে, পলেস্তরা খসে কঙ্কাল বেরিয়ে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি।
এদিকে বিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর জেলার প্রধানতম এ বিদ্যাপিঠে ভর্তি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ২শ ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬শ শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত রয়েছে। ভবনের পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষক সংকটও। দুই শিফটে ৫২ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষক, দুইজন সহকারী প্রধান শিক্ষক সহ মোট ২১জন শিক্ষক রয়েছেন। ৩১জন শিক্ষকই নেই। এর মধ্যে কোন শিক্ষক অসুস্থ থাকলে ওই বিষয়ে ক্লাস বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক সময় একইদিন দুইজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীরা ফিরে যেতে হয় তাদের বাসা-বাড়িতে। এমনি করে ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বছর পার করতে হচ্ছে। দুই শিফটে ১৭টি শাখা ও ১৩টি ক্লাস রুম রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিশ্চিক একাধিক অভিভাবক জানান, বাসা-বাড়িতে পড়াশুনা করলেও শ্রেণি কক্ষে পড়ালেখায় ভিন্ন রকম আনন্দ রয়েছে। শ্রেণি কক্ষের পাঠদান হলো বাস্তব শিক্ষার নমুনা। সে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সেটি অপ্রাপ্তিই থেকে যায়। পাঠ্যপুস্ককে পড়াশুনা করলেও ক্লাসে শিক্ষকের টিচিং পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি কোনভাবেই একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর কাম্য হতে পারে না। শিক্ষকের গাইডলাইনেই একজন শিক্ষার্থী বিকশিত হয়। শিক্ষকরাই একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিক শিক্ষা, আদর্শিক ও দেশপ্রেম শিক্ষা দিয়ে থাকেন। একজন শিক্ষার্থী মাতা পিতার পরে শিক্ষকের শিক্ষাকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অভিভাবকরা দাবী জানান, অচিরেই যেন এসব সমস্যা সমাধান করে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট হবেন।
জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছন। তিনি আরো বলেন, ভবন সংকট ও শিক্ষক সল্পতা মেনেই প্রতিদিন শিক্ষক অক্লান্ত পরিশ্রম করে ক্লাস সামলাতে হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন।