ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ :

স্ত্রী লোকের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতার অভাবকে বন্ধাত্ব বলে এবং দুই বৎসর বা তার থেকে বেশি সময় চেষ্টা করার পরেও গর্ভধারণে ব্যার্থ হলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বন্ধ্যাত্ব বলে। ৮শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্বের শিকার হন। বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী উভয়ের কারণে হতে পারে। বন্ধ্যত্ব দু ধরনের যথা :

প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব, বিবাহের পর সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কখনই গর্ভধারণ না হওয়াকে প্রাথমিক বন্ধ্যত্ব বলে, পরবর্তী বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব (কোন মহিলা প্রথমবার গর্ভধারণের পর দ্বিতীয়বার আর যদি গর্ভধারণ করতে না পারে তবে তাকে পরবর্তী বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্যত্ব বলে।

কারণ :

বন্ধ্যত্ব স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজনের কারণে হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে অন্যায়ভাবে শুধুমাত্র স্ত্রীদেরকে দোষারোপ করা হয় এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে স্বামীকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়েতে উৎসাহিত করা হয়।

স্বামীর কারণে বন্ধ্যত্ব :

* স্বামীর বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে।

* মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণু বিহীন বীর্যের কারণে একটি অন্ডকোষ/ লুপ্ত প্রায় অন্ডকোষ/ অন্ডকোষ জন্মগত ভাবে না থাকলে।

* অন্ডকোষের প্রদাহ, মাম্পস বা গলা ফুলা রোগের প্রদাহের কারণে।

* বিকৃত শুক্রাণু থাকলে।

* যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম হলে।

* শুক্রাণু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও পরিবেষ অন্ডকোষে না থাকলে।

* যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা, গনোরিয়া প্রভৃতি রোগ থাকলে।

স্ত্রীর কারণে বন্ধ্যত্ব :

* যদি জরায়ুর আকার ছোট হয়। * ডিম্বাশয় যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে। * মাসিকের গন্ডগোল থাকলে। * বস্তি কোটরের প্রদাহ হলে। * বংশগত* জরায়ুতে টিউমার হলে। * যক্ষ্মা গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ হলে।

উল্লেখিত কারণগুলো ছাড়াও স্ত্রীর ডিম্ব ক্ষরণের সময় যৌনমিলন না হলে গর্ভধারণ হয় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা :

বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়ে প্রথমে স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এবং স্বামীর শারীরিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি কোন অসুবিধা ধরা না পড়ে তখন স্ত্রীকে পরীক্ষা করতে হবে। স্ত্রীর পরীক্ষাগুলো ব্যয়বহুল বিধায় প্রথমে স্বামীকে পরীক্ষা করা উচিত।

পরামর্শ :

যদি কোন দম্পতির একবারেই সন্তান না হয় অথবা সন্তান হওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তান কাঙ্খিত সময়ে না হয় তবে তাদেরকে নিন্মলিখিত পরামর্শ দেয়া উচিত * স্বামী ও স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে (সব ঠিক থাকার পরেও শতকরা ২০ ভাগ দম্পতির ১ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে, শতকরা ১০ ভাগ দম্পতির ২ বছরে বাচ্চা নাও হতে পারে)। * স্ত্রীর ডিম্বক্ষরনের সময় অর্থাৎ মাসিক শুরুর ১১তম দিন থেকে ১৮তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সম্ভব না হলে ১ দিন পরে পরে স্বামীর সাথে মিলনের পরামর্শ দিতে হবে। * স্বামীর বা স্ত্রীর কোন জটিল রোগ বা যৌন রোগ থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর ধূমপান, মদ্যপান, যে কোন নেশা গ্রহণ, একনাগাড়ে দীর্ঘদিন এন্টিহিস্টামিন খাওয়া বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ওজন থাকলে কমাতে হবে।

হোমিও প্রতিবিধান, রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়, এই জন্য অভিজ্ঞ হোমিওচিকিৎসক রোগীর পুরা লক্ষণ মিলিয়ে বন্ধ্যত্বের রোগীর চিকিৎসা দিতে পারলে তাহলে আল্লাহর রহমতে হোমিও তে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

হোমিওচিকিৎসা :

প্রাথমিকভাবে লক্ষণের উপর যেই সব মেডিসিন আসতে পারে, অরাম- মিউর ন্যাট, বোরাক্স, হেলোনিয়াস, নেট্রাম মিউর, কোনিয়াম, থুজা, সালফার, নাক্স, পালছেটিলা, সিপিয়া, লাইকোপোডিয়াম, সিলিনিয়াম সহ আরো অনেক ঔষধ লক্ষণের উপর আসতে পারে, তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া মেডিসিন নিজে নিজে ব্যবহার করলে রোগ আরো জটিল আকারে পৌঁছতে পারে।

লেখক : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক।