আলী হায়দার মানিক : ফেনী জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান বলেছেন, ফেনী একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ফেনী। এ জেলার সুনাম আপনারা বৃদ্ধি করেছেন। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক। আমাদের দেশটাকে আপনারা স্বাধীন করেছেন। তার ফলে আমরা আজ বড় বড় পদে আছি। আমি নিজে ডিসি বলতে পারছি। এটা আপনাদের অবদান, এ জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি নিজেও মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার বাবাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অনেক সম্মানীত করেছেন। দেশের সব জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স রয়েছে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, একমাত্র আপনারাই পেরেছেন মাত্র ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। এটাই হলো আপনাদের সফলতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বিশ্বের সকল দেশ এখন বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। এটাই আমাদের সফলতা। বাংলাদেশ এখন সম্মানের জায়গায় চলে এসেছে। আপনাদের আগে ভাতা ছিলো ৫শ টাকা। এখন ১০ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হয়। আপনারা মারা গেলে রাষ্ট্রী মর্যাদা দেয়া হয়। এটি অনেক বড় প্রাপ্তি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। যে কোন ভবনে বা রাস্তায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম করন করতে হলে আবেদন করতে হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হবে। সেখান থেকে তা পাশ হয়ে আসবে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের একটা অহংকার রয়েছে। আপনাদের বৈশিষ্ট রয়েছে। আপনি একজন সাধারণ নাগরিক নয়। মুক্তিযোদ্ধা মানেই দেশের বিশিষ্ট নাগরিক। এ নাগরিকের সম্মানটুকু আমরা আপনাদের দিতে চাই। আমরা শুধু দিলেই হবে না। আপনারাও নিতে হবে। আপনাদের সম্মান করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। আপনাদের দাবী আদায়ের জন্য নিজেদেরকে সোচ্চার হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে জাতির কল্যাণে তৈরি করার আহবান জানান। অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ২৫টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে বলেন ঘোষণা দেন জেলা জেলা প্রশাসক মো: ওয়াজিদুজজামান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক দেবময় দেওয়ান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আকতার উন নেছা শিউলী অংশ নেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পিকেএম এনামুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম, মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আক্রামুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উক্য সিং, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান, সিভিল সার্জন ডাা. হাসান শাহরিয়ার কবির, জিপি প্রিয়রঞ্জন দত্ত, পিপি হাফেজ আহম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা শাহদুল হক বুলবুল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নুরেরজামান চৌধুরী।

antalya escort bursa escort adana escort mersin escort mugla escort samsun escort konya escort