ফেনী শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ মহিপালে ড্রেণ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে ফলের ভর মৌসুমে গাড়ীর চাপ থাকায় জনদূর্ভোগ চরমে পৌছেছে। যান চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সার্কিট হাউজ সড়কের মাথা থেকে পাঁচগাছিয়া বাজার সংলগ্ন ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য এমজিএসপি প্রকল্প থেকে যথাক্রমে আড়াই কোটি ও দেড় কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। প্রকল্পের কার্যকাল অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের দু’মাস পর প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় কাজের মান ও কার্যকালের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত ক’দিনে টানা বৃষ্টিতে সড়কটিতে চলাচল করতে গিয়ে অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার এক পাশে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। কাদা-পানিতে বেহাল পরিস্থিতি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে কাজ শেষ না করে খন্ডিতভাবে কাজ করছেন। এক জায়গায় কাজ শেষ না করেই অন্য জায়গায় আবার কাজ শুরু করেন। এনিয়েও ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ড্রেনের জন্য খোঁড়া মাটিগুলো ঠিকাদার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। এ কারনেই ব্যবসায়ীরা বাড়তি টাকা খরচ করে রাস্তা সমতল করতে বালু কিনছেন।

মেসার্স ছায়েদ ফ্রুট এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী মাছুম খন্দকার জানান, তিনি দোকানের সামনের জায়গা সমতল করতে তিন ট্রাক বালু এনেছেন। ফলের মৌসুমে ড্রেন নির্মাণে ভোগান্তির কারনে খরচ বেশি হলেও বিক্রি কম হচ্ছে বলে তিনি জানান।

নজির আহম্মদ কোল্ড স্টোরের ম্যানেজার আবুল বাশার জানান, নির্মাণ কাজের কারনে আমের মৌসুমেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারনে অনেকসময় পাঁচগাছিয়া বাজারে ট্রাক থেকে ফল নামিয়ে ভ্যানে করে মার্কেটে আনতে হয়।

ফেনী জেলা ফল আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী জানান, ড্রেন নির্মাণ হলে সাময়িক কষ্টটা মানতে হবে। তবে কাজটি অসময়ে হওয়ায় গাড়ী প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ বেড়ে গেছে।

জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ডেন নির্মান কাজ শেষ হলে ভোগান্তি দূর হয়ে যাবে।

জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গীটার বলেন, কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। ইতিমধ্যে মেয়াদের তিনমাস শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভোগান্তি কম হয়।

জানতে চাইলে ফেনী জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর গোলাম ফারুক ফেনীর সময় কে বলেন, ড্রেন নির্মাণের কারনে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তা নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

antalya escort bursa escort adana escort mersin escort mugla escort samsun escort konya escort