স্টাফ রিপোর্টার : আলোচিত রাফি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মোকসুদ আলম এবং মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোকসুদকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মনিরুজ্জামান তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান তাকে গতকাল শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সোমবার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছে আদালত।

অপরদিকে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ এস.এম সিরাজ উদ-দৌলার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে  নেতৃত্ব দেয়া নূর উদ্দিনকে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভালুকার সিডস্টোর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি বিশেষ টিম। তাদের সহায়তা করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের ঢাকা কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

নুর উদ্দিনের হাতে এর আগেও নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন নুসরাত। অধ্যক্ষের যেকোনো অপকর্মের দোসর এই নুর উদ্দিন এর আগে নুসরাতকে ২০১৭ সালে একবার চুন নিক্ষেপ করেন। জানা গেছে, ২০১৭ সালের সোনাগাজীর খাতিজাতুল কোবরা মহিলা মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় নুসরাতকে চুনের পানি ছুঁড়ে নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন বখাটে। নুসরাত বাংলা ২য় পত্র বিষয়ের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার কাশ্মির বাজার এলাকায় তার চোখে দাহ্য পদার্থ (চুনের পানি) ছুঁড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোন বিচার হয়নি। আর এই বিচার না হওয়ার ফলেই আবারো সেই নুর উদ্দিন বাহিনীর হাতে প্রাণ দিতে হলো নুসরাতকে। এই ঘটনা তখন বিভিন্ন মিডিয়াও এসেছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।