স্টাফ রিপোর্টার : নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল শুক্রবার মানববন্ধন করেছে ফেনী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘ফেনী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জাবি ‘ফেনী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক তানজিলুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষক সিরাজউদ্দৌলা ও তার অনুসারীরা নুসরাতের সাথে যে অন্যায় করেছে তাতে তাদেরকে ফাঁসি দেওয়া ছাড়া অন্য কোন শাস্তি দিলে ছাত্রসমাজ মেনে নিবেনা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বিভিন্ন গোষ্ঠি এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা এই কাজ করছে তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমাদের দাবি বিচার বিভাগীয় তদস্তের মাধ্যেম দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

ফেনী থেকে আগত জাবির শিক্ষার্থী নাজনীন শ্রাবনী বলেন, ‘এই ধরনের কোন ঘটনা যাতে আর পরবর্তীতে না ঘটে সেই জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ধর্ষক সিরাজউদ্দৌলাকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। এসময় ফেনী জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি সভাপতি আহমেদ আশরাফসহ প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাফি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আভাস’ (আমরা ভালো সঙ্গে)। গতকাল শুক্রবার শহরের ট্রাংক রোড শহীদ মিনারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা নুসরাতসহ সারাদেশে নারীর প্রতি সংগঠিত সকল যৌন-সহিংসতার দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্ছ শাস্তি দাবী করেন। সংগঠনের সংগঠক নাসিম আনোয়ার জাকি বলেন, নুসরাত জাহান রাফির সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা একটি ন্যাক্কার জনক ঘটনা। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এমন সময়ে আমরা চিন্তা করব জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও উৎকর্ষ নিয়ে। এমন সময় আমরা এ ধরনের একটি লজ্জাষ্কর ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় দাড়িয়েছি। এটি অত্যন্ত হতাশা ও দূ:খজনক। আমরা চাই চাই এঘটনা সাথে জড়িত সকল আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আমাদের মা-বোন ও সন্তানেরা নিরাপদে এ সমাজে বিচরণ করুক। শিক্ষা ক্ষেত্র, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বোপরি নিরাপদ হোক। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন আভাসের সংগঠক শুভ নীল পিকলু, উৎপল সুজন, ফজলে রাব্বি মোস্তফা শুভ, রিপন মজুমদার, সোলায়মান হাজারী ডালিম,  রুবেল হাজারী, তারেক, অনিম প্রমুখ।

অপরদিকে রাফি হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজপথে কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। সেখানে বক্তারা নুসরাত হত্যার বিচার ঝুলে যেতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তারা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘নোয়াখালী সমিতি’, ‘নিরাপদ নোয়াখালী চাই’সহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। একযোগে মানববন্ধনে মুসলিম সাপোর্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগর, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রম পরিষদ অংশ নেয়। এছাড়াও পিরোজপুর, সুনামগঞ্জ, মাগুরাসহ বেশ কিছু জেলায় শুক্রবার মানববন্ধন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠন। প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়ে বেলা পৌনে ১২টায় শেষ হয়।

অন্যদিকে নুসরাত জাহান রাফিকে দিনদুপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে পুড়িয়ে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ও নেপথ্য খলনায়কদের ফাঁসির দাবি নিয়ে শাহবাগে গণঅস্থান শুরু করেছে নুসরাত জাগরণ মঞ্চ। বৃহস্পতিবার বিকাল চারটা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিনেই রাত নয়টা প্রায় ৫ ঘন্টা অবস্থান করেন তারা। এসময় নুসরাতের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে নানান শ্লোগান দেন সগঠনটি। মঞ্চের আহ্বায়ক আমের মক্কী জানান, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আহবান জানিয়ে একত্রিত হয়েছেন তারা। ফেসবুকে ব্যানার দেখে প্রায় কয়েকশ লোক নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচারে গণ-অবস্থানে অংশ নিয়েছেন। এরই মধ্যে একাত্মতা পোষণ করে ৪ টি সামাজিক সংগঠন এই আন্দোলনে নিয়মিত পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়াও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা এসেও গণঅবস্থানে শরিক হয়েছে বলে জানান তিনি।

গণ-অবস্থানে অংশ নিয়ে শিক্ষক ও সাংবাদিক নেতা বোরহান উদ্দিন ফয়সাল বলেন, এর আগেও এক বছর আগে নুসরাত জাহান রাফির উপর হামলা হয়েছিল। তখন হামলার বিচার না হওয়ায়  আজ নুসরাতকে দ্বিতীয় দফায় পুড়ে মরতে হলো। প্রশাসন এ দায় এড়াতে পারে না। অভিযুক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষসহ যারা সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেপথ্যে এই হামলার হোতা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

আলাউদ্দিন আদর গণ-অবস্থানে অংশ নিয়ে বলেন, ফেনীতে বার বার মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় বাংলাদেশে আজ এই জেলাটি খুবই বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। একরাম হত্যা থেকে শুরু করে নুসরাত পর্যন্ত সকল খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করে ফেনিবাসীকে দায় মুক্ত করতে সরকারকে আহবান জানানো হয়।

ব্লাড রিলেশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শাহিদুল হামিদ রাহাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্যেগে হেরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে পর্যন্ত নুসরাত সুচিকিৎসা পেয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলেই নুসরাতের সকল খুনিদের বিচার কার্যকর হওয়াও সম্ভব।