আলী হায়দার মানিক :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে ফের আলোচনায় রয়েছেন জাহানআরা বেগম সুরমা। জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের এ সভানেত্রী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

দলীয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সত্তরের দশকে কলেজে পড়াকালীন সময় থেকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। জাহান আরা বেগম সুরমা এমপি ফেনীর রাজা খ্যাত মরহুম খাজা আহম্মদের ভাগ্নি। তার বর্ণাঢ্য রাজনীতির কর্মকান্ড দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের সক্রীয় কর্মী হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯২ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকার দায়িত্বপালন করেন। মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়কও ছিলেন। পর্যাক্রমে তিনি জেলা আওয়ামী মহিলালীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপালন করে জেলা মহিলা লীগের সম্পাদক ও বর্তমানে সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করছেন। তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে ফেনী আওয়ামী পরিবারের অতি পরিচিত মুখ। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মহিলা আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করা তথা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাপক প্রচার-প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। ১৯৯৭ সালে মহিলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ২০০৪ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও ২০১২ সালের সম্মেলনে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি দায়িত্বপালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটিরও সদস্য।

জাহান আরা বেগম সুরমা ৭ বছর জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তার দায়িত্বপালনকালে জেলা মহিলা সংস্থার মাধ্যমে নারীদের জন্য বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ক্যাটারিং (রন্ধন শিল্প) কোর্স সমূহ চালু করা, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রম দৃশ্যমান রূপ দেয়া এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ফেনীর নারী সাংবাদিকদের অন্যতম জাহানআরা বেগম সুরমা। তিনি সাপ্তাহিক জাতীয় বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। তিনি ফেনী প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক, ফেনী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও শিক্ষা সমিতির জেলা সহ-সভাপতি, ফেনী ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য, সদর উপজেলায় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জননী। তার স্বামী মরহুম একেএম সামছুল হকও আওয়ামী রাজনীতির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি দাগনভূঞা উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একেএম সামছুল হক বর্ণাঢ্য রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকা পেশায়ও জড়িত ছিলেন। তার সম্পাদনায় ফেনী থেকে সাপ্তাহিক জাতীয় বার্তা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। তিনি ফেনী প্রেস ক্লাবেরও সভাপতি ছিলেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহান আরা বেগম সুরমার দীর্ঘ রাজনীতি জীবনের আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছেন। জাতীয় সংসদ সদস্য মনোনীত হওয়ার পর তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, সন্ত্রাস দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার সরকারের সফল রাষ্ট্র পরিচালনা, যুগান্তকারী সাফল্যময় কর্মকান্ড এবং নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নিরলস সাধনায় তিনি নিয়োজিত রয়েছেন।

জাহান আরা বেগম সুরমা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মোহাম্মদ মুসলিম অবসরপ্রাপ্ত সুপারিন্টেনডেন্ট অব কাস্টমস। মাতা মৃত ফাতেমা খাতুন। ১ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ফেনী পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু। পরে ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে ফেনী সরকারী কলেজে তিনি শিক্ষা জীবন শেষ করেন। ১৯৭৬ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক একেএম সামছুল হকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের আসন্ন নির্বাচনে তিনি আবারো সরকারি দলের মনোনয়ন লড়াইয়ে তৃণমূলে জোর আলোচনায় রয়েছেন।