বিনোদন সময় ডেস্ক :
শম্পা রেজা। বরেণ্য অভিনেত্রী, উপস্থাপক ও সঙ্গীতশিল্পী। এনটিভিতে আজ রাতে প্রচার হবে তার অভিনীত নাটক 'ভালোবাসা কারে কয়'। নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-
বলেছিলেন গৎ বাঁধা কাজ করতে চান না। সেদিক থেকে 'ভালোবাসা কারে কয়' ধারাবাহিক কতটা ভিন্নধর্মী?
রুলীন রহমানের পরিচালনায় এই নাটকের গল্পই প্রাণ। এটিই এ সময়ের ধারাবাহিকগুলো থেকে নাটকটিকে আলাদা করে দিয়েছে। ধারাবাহিকে আমাকে দেখা যাবে গ্রামের দজ্জাল মহিলার চরিত্রে। সম্পদশালী ওই মহিলাটি নানা কূটকৌশল চালায়। নাটকের গল্প শুনেই রাজি হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ভালো কাজ হবে। আর অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও মন্দ নয়। রুলীনের সঙ্গে কাজ করতে মজা লাগে। ময়ূর বাহন, ছায়ানারী কায়া নারীসহ অনেক ধারাবাহিকে কাজ করেছি। সে মজা ছুড়ে দেয়। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার সঙ্গে কাজ করে আসছি। আমাকে সবসময়ই মজার চরিত্র উপহার দেয়।
নতুন আর কী কাজ করছেন?
একসঙ্গে এত ধারাবাহিকের কাজ কোনো সময়ই করি না। শাখাওয়াত মানিকের পরিচালনায় 'মেঘে ঢাকা শহর' ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। হাতে থাকা ধারাবাহিক শেষ হলেই নতুন ধারাবাহিক নিয়ে ভাবব।
চলচ্চিত্র নিয়ে কী ভাবছেন?
ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে মাঝে মাঝে অভিনয় করছি। রাশিদ পলাশের 'পদ্মপুরাণ'-এ অভিনয় করছি। এর চল্লিশভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখানে আমাকে হিজড়ার চরিত্রে দেখা যাবে। চরিত্রটি আমি বেশ এনজয় করছি। যে কাজটি আমি উপভোগ না করতে পারব সে কাজটি কখনোই করি না। একটা চরিত্র মানে হলো একটা চরিত্রকে আবিস্কার করা। সেই জায়গাটা থেকেই চলচ্চিত্রে বেছে বেছে কাজ করি। নতুন আরও একটি চলচ্চিত্রে কাজের কথা চলছে। এখনও এটা কথার মধ্যে রয়েছে। পাকাপাকি হলে নাম প্রকাশ করব।
টিভি মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা আপনার কাছে কেমন মনে হয়?
পরিবর্তনের সময় চলছে। সময়টা এখন পরিবর্তনের, বিবর্তনের। যে কোনো জিনিসই পরিবর্তিত ও বিবর্তিত হয়, হবেই। এখন ইউটিউব, অনলাইন টিভি- এসবের যুগে সবকিছুই তো একটু মুখ থুবড়ে পড়ার মতো হচ্ছে। আমরা কোনোমতে সার্ভাইভ করছি। টিভি একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সারাবিশ্ব সবার কাছে এখন খোলা। সেটা স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের কল্যাণে। এখন কিন্তু সার্ভাইভ করার সিরিয়াস সময়। একদম অস্তিত্বের লড়াই। এই অস্তিত্বের লড়াইটা সিরিয়াসলি নিতে হবে। যেহেতু এটা অস্তিত্বের লড়াই, আমি বেঁচে থাকব না মরে যাব- এ সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে টিভির ভাবধারায় আমার মনে হয় আরও স্বকীয়তা আনা উচিত। আমরা শুধু নকল করছি। বিশ্বায়নের যুগে আমাদের দাঁড়াতে হবে। নিজের চরিত্র নিয়ে চ্যানেলের চেহারা হতে হবে। এর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সেটার জন্য পড়াশোনা প্রয়োজন, গবেষণা প্রয়োজন। একসময় আমাদের স্বকীয়তা ছিল। আমরাই টিভির চেহারার রূপ দিয়েছি। বাংলাদেশে প্রথম টিভির রূপ দিয়েছে সেই ১৯৬৪ সালে। সে ক্ষেত্রে আমরা তো পথিকৃৎ। আমরা পথ প্রদর্শন করেছি। তাই আমাদের দায়িত্ব বেশি। আমরা রূপটা দিয়েছিলাম, সেটা তো আরও অগ্রগতি হওয়ার দরকার ছিল।