এডভোকেট রাশেদ মাযহার  ###

‘বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, কার্যক্রমের সম্প্রসারণ ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করেছেন সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহকে বাৎসরিক অনুদান প্রদান কার্যক্রম, এ ক্ষেত্রে সেই সকল সংগঠন অনুদান পাওয়ার যোগ্য যাদের নিয়মিত কার্যক্রম আছে, আবেদন করার সময় বিগত ১ বছরের কার্যক্রম এর বিবরণ জমা দিতে হয়।

দূর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে যে অনুদান প্রদান কার্যক্রমের শুরু থেকেই যে সব সংগঠন এর নিয়মিত কার্যক্রম নেই, এমনকি সরকারি অনুষ্ঠান সমূহেও তাদের কোন অংশগ্রহণ নেই, পালন করেন না জাতীয় অনুষ্ঠানাদিও...। নেই সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরির কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ, তারা কেউ কেউ সর্বোচ্চ অনুদান পায় এবং প্রতি বছরই পায়।

যারা প্রথম থেকেই বড় অংকের অনুদান নিচ্ছেন, তারাও প্রতি বছরই বড় অংকের অনুদান নিয়ে নিচ্ছেন, এর মধ্যে স্কুল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিয়মিত বড় অংকের আয়ের উৎস আছে তারাও বাদ যান না, বাদ যান না সরকারি ভূমি প্রাপ্ত ও উক্ত ভূমির উপর সরকারি অনুদানে নির্মিত গৃহে স্কুল কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠন সমূহও।

আর প্রচন্ড প্রতিকূলতার মধ্যেও যে কয়েকটি সংগঠন নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ফেনীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সচল রেখেছে তারা প্রায়শই কোন অনুদান পায় না, আর কদাপি পেলেও পায় সর্বনিম্ন অংক, কেন তার কোন ব্যখ্যা নেই, এমনকি জাতীয় এবং সরকারি অনুষ্ঠান সমূহ তারা করছে পকেটের টাকা খরচ করে... সরকারি বা বেসরকারি কোন সহায়তাই তারা পাচ্ছে না। কেবল বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এক অদম্য ইচ্ছেয় টিকে আছে তারা।

কার্যক্রম বিহীন সংগঠন সমূহ কাগজে কলমে যে কার্যক্রমের বিবরণ জমা দেয় তাও যাচাই করে দেখা হয় না, কেন দেখা হয় না তাও অজানা।

এ দিকটায় কেউ আলোকপাত করবেন কি? কে কত টাকা পেল, কি যোগ্যতায় পেল, তাদের কার্যক্রম কি ছিল বিগত ৫ বছরে? একটু তুলে ধরলে আমরা কৃতজ্ঞ হতাম।

স্থানীয় পত্রিকায় অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোরপ্রাপ্ত অনুদানের পরিমাণ, তাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের বিবরণ, কোথায় কোথায় সে অনুষ্ঠান সমূহ করলেন, সংগঠন এর মহড়া কোথায় করেন, সংগঠন এর ধরণ কি অর্থাৎ এটি কি স্কুল (অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা দানকারী প্রতিষ্ঠান) না কেবলই কয়েকজন সদস্যের কষ্টার্জিত পকেটের টাকায় পরিচালিত সংগঠন, নাকি কেবলই সাইনবোর্ড সর্বস্ব, নাকি কাগজেই অস্তিত্ব থাকা সংগঠন, এই বিবরণ প্রকাশিত হলে স্বচ্ছতা পেতাম এবং জনগণ জানতো ও নিশ্চিত হতো আমরা গুটি কয়েক কেবলই বিভ্রান্তি ছড়াই।

আমি অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠন এর নাম ও অনুদানের পরিমাণ এর তালিকাটি সংগ্রহ করে নীচে দিলাম। যারা ফেনীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খোঁজ খবর রাখেন তারা দয়া করে দেখুন, ন্যায্য কথাটি বলুন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বন্ধুরা এবং সাংবাদিক বন্ধুরা স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে আসবেন কি?’