স্টাফ রিপোর্টার :
মাত্র ১শ টাকার জন্য লাশ হলো সোনাগাজীর তারেক হাসান রুবেল। রুবেল ও তার পিতা আব্দুল্যাহ মিন্টু ছোট ফেনী নদী পার হওয়ার জন্য খেয়াঘাটে যান। নদী পার হতে ভাড়া ১০ টাকা হলেও মাঝি আব্দুল হাদি ৫০০ টাকা দাবী করেন। ৫০০ টাকা ছাড়া তাকে নদী পার করিয়ে দিতে অস্বিকার করেন মাঝি। দরকষাকষির এক পর্যায়ে রুবেল ৪০০ টাকা দিতে রাজি হলেও মাঝি তাকে নদী পার করে দিতে রাজি হয়নি।
একপর্যায়ে রুবেল সাতার কেটে নদী পার হওয়ার প্রস্তুতি নিলে তার পিতাও তার সাথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পিতা ও পুত্র সাতার কেটে নদী পার হওয়ার সময় পিতা তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ছেলে স্রোতের টানে হারিয়ে যায়। নিখোঁজের পর থেকে মাঝি আব্দুল হাদি পালিয়ে গিয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেনী সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের সওদাগরহাট খেয়া ঘাট সংলগ্ন ছোট ফেনী নদীতে এঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কলেজ ছাত্র তারেক হাসান রুবেল (২০) বসুরহাট মুজিব কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র।
এদিকে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ হবার ২৮ ঘন্টা পর শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে লাশ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কোম্পানিগঞ্জ থানার পুলিশ রাতভর তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। শনিবার সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছোট ফেনী নদীতে ডুবুরি নামিয়েও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে এলাকাবাসীরা নিজ উদ্যোগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী ছোট নদী থেকে কোম্পানীগঞ্জ মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা থেকে কলেজ ছাত্র রুবেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুই দফা জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রুবেল সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের পুরাতন সওদাগরহাট এলাকার বাসিন্দা।

Image may contain: 1 person