স্টাফ রিপোর্টার : ‘নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা কর্তৃক শ্লীলতাহানীর ঘটনা নিয়ে দুই সহপাঠি সাথী ও তামান্নাকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছিল। ওই চিঠিতে নুসরাত পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। তার মৃত্যুর আগের দিন ৯ এপ্রিল চিঠিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। সেখানেই তাদের উদ্দেশ্যে লিখা চিঠিটি দেখতে পায় তার দুই সহপাঠি তানজিনা বেগম সাথী ও বিবি জাহেদা বেগম তামান্না।’ গতকাল মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যপ্রদানকালে এমন কথা জানায় তারা। একইদিন মাদরাসার পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকীও স্বাক্ষ্যপ্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে কেন্দ্র সচিব ও দুই সহপাঠির সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।

আদালতে কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকী বলেন, ‘ঘটনার পর ১০টা ২৫ মিনিটে পুলিশের সাথে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে যাই। সেখানে কেরোসিন মিশ্রিত পলিথিন, বোরকার পোড়া অংশ, এক জোড়া স্যান্ডেল ও পাপোস দেখতে পাই।

আজ বুধবার এ মামলায় আরও ৪ জন সাক্ষ্য প্রদানের কথা রয়েছে। এরা হলেন মাদরাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, আয়া বেবি রানী দাস, সহপাঠি আকলিমা আক্তার ও কাউসার মাহমুদ। এ মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ২১ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

প্রসঙ্গত; গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলেন মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল। এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পিবিআই অন্য ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করলে আদালত তা অনুমোদন করেন। গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাত রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে ৭ জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

antalya escort bursa escort adana escort mersin escort mugla escort samsun escort konya escort