অনলাইন ডেস্ক :
হারিকেনের শক্তি নিয়ে ভারতের ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় তিতলি।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ওড়িশার গোপালপুর এবং কলিঙ্গপত্তমের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানে।

তিতলি ওড়িশার গোপালপুরে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১০২ কিলোমিটার। আর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেখানে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে চলছে বৃষ্টি। বিভিন্ন জেলায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। অন্ধ্র আর ওড়িশায় ট্রেন ও বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বহরামপুর ও গোপালপুরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

টাইমস অব ইনডিয়া জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে ওড়িশা রাজ্য সরকার ১৮টি জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বনস্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিতলি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পাওয়ায় বুধবারই উপকূলীয় এলাকা থেকে তিন লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, স্থলভাগে ওঠার পর মোটামুটি ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে তিতলি। ঝড়টি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে কিছুটা বাঁক নিয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হবে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে এর শক্তি।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শক্তি কমে এলেও বিস্তর বৃষ্টি ঝরাবে তিতলি। সেই সঙ্গে চলবে দমকা হাওয়া, যার জের চলবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাতেও।

ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বুধবার থেকেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেই সঙ্গে  পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত  সারাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রাখতে বলেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিতলির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বুধবার থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার দিনের প্রায় পুরো সময় আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাপমাত্রাও গত কয়েক দিনের তুলনায় কমে এসেছে।

বৃহস্পতিবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়োহাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে আসতে পারে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে ‘তিতলি’ নামটি প্রস্তাব করে পাকিস্তান। এর অর্থ প্রজাপতি।