অনলাইন ডেস্ক নিউজ

 

অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে যাদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, তাদের নতুন জীবনের স্বাদ দিতে পারে টকটকে লাল পাকা টমেটো ও সতেজ আপেল। এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একদল গবেষকের। জন হপকিন্সের গবেষকদের গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে, ১০ বছর বা তারও আগে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন— এমন প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে তাদের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত আপেল ও টমেটো খাওয়ার ফলে তাদের ফুসফুস থেকে ধূমপানের ক্ষতির ছাপ আশ্চর্যজনকভাবে মুছে গেছে! এ ছাড়াও নিয়মিত প্রচুর ধূমপান করেন— এমন ২০ জন ব্যক্তিকে নিয়মিত টমেটো ও আপেল খাইয়ে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে ধূমপানের ফলে ফুসফুসের যতোটা ক্ষতি হওয়ার কথা, তার তুলনায় ক্ষতি হয়েছে অনেক কম। জনস হপকিন্সের সহকারী অধ্যাপক ও প্রখ্যাত গবেষক ভ্যানেসা গার্সিয়া লারসেনের মতে, এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, যারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, তারা যদি রোজ নিয়ম করে টমেটো ও আপেল খান, তবে শরীরের বয়স বাড়লেও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকবে না বললেই চলে। উল্টে ফুসফুসের সমস্যা মিটে যেতে পারে। আর যারা ধূমপান করেন, তাদের ক্ষতির আশঙ্কাও অনেকটাই কমে যাবে। এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সার থেকেও রেহাই মিলতে পারে। তাছাড়া, যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের কাছেও এই দুটি ফল মহৌষধ হয়ে উঠতে পারে বলেও দাবি গবেষকদের। তাদের মতে, টমেটো ও আপেলের মধ্যে থাকা অ্যাসিড ফুসফুসের অসুখ সারাতে অব্যর্থ।
২০০২ সালে প্রথমবার ৬৫০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান এবং ফুসফুসের অবস্থা নিয়ে গবেষণা শুরু করে এই গবেষক দলটি। ১০ বছর পরে ফের তাদের ওপরই পরীক্ষা চালানো হয় এবং ফুসফুসের অবস্থা বিচার করে নিয়মিত টমেটো, আপেল খাওয়ানো শুরু হয়। সেই গবেষণারই প্রতিবেদন হাতে এসেছে সম্প্রতি।

তবে শুধু আপেল বা টমেটোই নয়, গবেষকরা বলছেন, যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক যদি প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে তাজা ফল খান, তা হলে তাদের ফুসফুস অন্যদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ ভালো থাকবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সবচেয়ে ভালো কাজে করবে টমেটো ও আপেল। তবে প্রক্রিয়াজাত ফলে এই সুফল মিলবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন গবেষকরা।