দাগনভূঞা প্রতিনিধি :
দাগনভূঞা সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মঙ্গলবার এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের আয়োজনে মিলাদ-মাহফিলের অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির সাথে গান প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের করা এমন কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাউন্ড সিস্টেমের তালে তালে অশ্লীল গান গাইতেছে এবং কয়েকজন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে গানের সাথে ড্যান্স করতেছে। এবং কয়েকজন প্রকাশ্যে গাঁজা ও সিগারেট সেবন করতেছে। মুহুর্তে এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। উপজেলার সচেতন মহল সমালোচনা করে বলেন, উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ। সেই কলেজের ভিতরে বিদায় অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন ও অশ্লীল গান পরিবেশন করা কতটা নিন্দনীয় তা বলে বুঝাতে পারবোনা। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীদের যদি এই অবস্থা হয়, তারা ভবিষ্যতে এ জাতীকে কি উপহার দিবে। তারা নিজেরাইতো অসুস্থ জাতী হিসেবে গড়ে উঠতেছে। তারা এ বয়সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের মাধ্যমে তাদের নৈতিক শিক্ষার যে অভাব রয়েছে তা দেশ ও জাতীর কাছে পরিষ্কার করেছে। সমালোচকরা এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষকরা দায় এড়াতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেছেন। তারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানান।
এবিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সফর আলি সম্রাট বলেন, কলেজের আয়োজনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল দুপুর ১২ টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আমি ওই প্রোগ্রামে বক্তব্য দিয়েছি। কিন্তু মূল অনুষ্ঠান শেষে যখন দেখি কলেজের ভিতরে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে আসা হচ্ছে গান পরিবেশন করার জন্য, তখন আমি প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞেস করি গান পরিবেশন অনুষ্ঠানের আয়োজক কি কলেজ কর্তৃপক্ষ তিনি বলেছেন না শিক্ষার্থীরাই করতেছে। পরে আমি এ অনুষ্ঠান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে আমি ক্যাম্পাস থেকে চলে আসি। তারপর রাতে দেখি কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন অশ্লীল গান ও প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের ভিড়িও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। এটি দেখে আমি নিজেও মর্মাহত আমি ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে এরকম অশালীন কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই ও এর সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানাই।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, কলেজের আয়োজনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আমি বক্তব্য প্রদান করি। তারপর ওই অনুষ্ঠান শেষে আমি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে চলে আসি। কলেজের আয়োজনে প্রোগ্রাম শেষে আর কি হয়েছে তা আমি বোধগম্য নই। রাতে ফেসবুকে কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন একটি ভিড়িও দেখে আমি নিজেও হতবাক হই। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন অশালীন আচরন আশা করা যায়না। এদের এ আচরনে কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিদায় অনুষ্ঠানে যারা এসব অশালীন আচরনে সম্পৃক্ত ছিল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো এদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কলেজ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
দাগনভূঞা একাডেমির শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের আমীর গাজী সালেহ্ উদ্দিন বলেন, উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। সেই কলেজ ক্যাম্পাসে বিদায় অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ জাতীকে হতাশ করেছে। তাদের এ অসুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে তারা কতটা নৈতিকভাবে অবক্ষয়ের মধ্যে রয়েছে তা ফুটে উঠেছে। এ অসুস্থ প্রজন্ম ভবিষ্যতে এ দেশ ও জাতীকে কি উপহার দিবে? তিনি বলেন, শুধু ইকবাল কলেজ না দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এরকম অশালীন কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটতেছে। আর এর জন্য পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান সমভাবে দায়ী। আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট প্রাপ্তির প্রতিযোগীতায় নামিয়ে দিই। তাদের নৈতিকতা শিক্ষা দিইনা। তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিইনা। যদি পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হত তাহলে এ বয়সে শিক্ষার্থীদের এমন নৈতিক অবক্ষয় হতোনা। আর এঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ আরো সজাগ দৃষ্টি রাখার দরকার ছিল। তারা এ ঘটনায় কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেনা।
সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুলকুতের রহমান বলেন, আমরা কলেজের পক্ষ থেকে এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করি। দুপুর ১২ টার মধ্যেই আমাদের প্রোগ্রাম শেষ হয়। পরে কলেজের কিছু শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে বলে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে আসে। এবং তারা সেখানে গান পরিবেশন করে। তবে এরকম অশালীন গান পরিবেশন ও প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। আমি মাত্র শুনেছি। যেসকল শিক্ষার্থী এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আমি তাদেরকে অভিভাবকসহ কলেজে ডাকবো এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।