দাগনভূঞা প্রতিনিধি :
দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের গজারিয়া দুরুল উলুম ইসলামিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে জোরপূর্বক ওরাল সেক্সের ঘটনায় রবিবার সাইফুদ্দিন (৩২) নামে এক লম্পট শিক্ষককে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।
এর আগে শনিবার সকালে গজারিয়া গ্রামের হকের বাড়ি সংলগ্ন ওই মাদ্রাসাটির পাঠদান চলাকালে এ অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাইফুদ্দিন মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতার ভাতিজা ও স্থানীয় সালাউদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজনরা জানান, সকালে ওই ছাত্রী মাদ্রাসায় গেলে তাকে নুরানি হুজুর সাইফুদ্দিন একটি কক্ষ থেকে ঝাড়ু নিয়ে আসতে বলে। শিশুটি ঝাড়ু আনতে গেলে তার পিছু পিছু গিয়ে লম্পট ওই শিক্ষক ভেতরে ডুকে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মেয়েটি শোর চিৎকার শুরু করলে এতে ব্যর্থ হয়ে জোরপূর্বক তার সঙ্গে ওরাল সেক্সের ঘটনা ঘটায় ওই লম্পট। একপর্যায়ে মেয়েটি দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। মাদ্রাসা ছুটির পর মেয়েটি বাড়িতে এসে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে লম্পট ওই হুজুরকে আটক করে। খবর পেয়ে রাত ৯ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুদ্দিনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে একইদিন রাতে দাগনভূঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
দাগনভূঞা থানার ওসি ওয়াহিদ ফারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই মামলায় আসামি সাইফুদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এলাকার এতিম অসহায় শিশুদের দ্বীনি শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩ যুগ পূর্বে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন একই গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দানবীর ড. মাওলানা রুহুল আমীন। সেই সঙ্গে মাদ্রাসাটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদও ওয়াকফ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি অসাধু চক্র মাদ্রাসাটি দখলে নিয়ে এতিমখানার নাম বিক্রি করে এলাকার প্রবাসী ও দানশীল ব্যাক্তিদের নিকট থেকে প্রতিমাসে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ধান্দায় মেতে উঠে। যদিও গতকাল রবিবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে মাত্র দুজন এতিম ছাত্র রয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই চক্রের মূল হোতা প্রতিষ্ঠার ছোট ভাই ও গ্রেপ্তারকৃত ওই লম্পট শিক্ষক সাইফুদ্দিনের পিতা অক্ষরজ্ঞানহীন সালাউদ্দিন নিজই। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে মাদ্রাসাটির মুহতামিম প্রবাস ফেরত নিজাম উদ্দিন এবং লম্পট সাইফুদ্দিনও।
এদিকে রবিবার সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসাটির নানা অনিয়ম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শিক্ষক নিয়োগে কোনো প্রকার নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে মাত্র ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা-পড়া করা সাইফুদ্দিনসহ যখন যাকে ইচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক হিসেবে স্থান দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠাতার উচ্চতর ডিগ্রিধারী একাধিক সন্তান থাকলেও অসাধু ওই দুষ্টু চক্রটি তাঁদের মাদ্রাসাটিতে আসতে নানা প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে নিজেদের দখলে নিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া মুহাতামিমসহ অন্য শিক্ষকদের করোরই নাগরিক ও কোনো প্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকে অসুস্থতার অযুহাতে নিজেকে আড়ালে রাখা মুহতামিম নিজাম উদ্দিন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।