মার্চ ৬, ২০২৬ ০৮:২৮

মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লালপোল বেদে পল্লীতে হামলা-ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেনী শহরতলীর কালিদহ ইউনিয়নের লালপোলের বেদে পল্লীতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে মাদক কারবারিরা। মাদক ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল এ হামলা চালায় বলে জানায় বেদে পল্লীর বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাত ২ টার দিকে বেদে পল্লীতে হামলা চালায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন এর নেতৃত্বে ইয়াসিন খোকন, মিলন ও সাহাব উদ্দিনের ছোট ভাই রাজু সহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল। এ সময় দুইটি দোকান ও চার থেকে পাঁচটি বসতঘর ভাঙচুর করে। দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয় বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের। হামলায় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

আহত রাশেদা ফেনীর সময়কে বলেন, ‘তারা আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমাকে টেনে নিয়ে যায়। আমি মুখ ও পায়ে আঘাত পেয়েছি। তারা এসে দোকান ও ঘর ভাংচুর চালায় এলোপাতাড়ি। এ সময় ইট নিক্ষেপ করে থাকে।’

ফারুল আক্তার বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৫ দফা হামলা হয়েছে আমাদের উপর। আমাদের কি দোষ। সাহাব উদ্দিন হামলা করছে। প্রায় ৫০ জন এসে আমাদের উপর হামলা করে। টাকা চায় আমাদের থেকে। নারী চায়। টাকা ও নারী না দেওয়ায় হামলা করছে।’

স্থানীয় দোকানদার মো. দুলাল বলেন, ‘আমরা এখানে ৩০-৩২ বছর থাকছি। আমাদের উপর এ রকম হামলা কখনো হয়নি। কালকে সাহাব উদ্দিন এসে এ পাশে দোকান ভাংচুর করছে, ওই পাশে দোকান ভাংচুর করছে। আমরা কি অপরাধ করছি-তা আমরা জানি না। আমি ছিলাম না। আমি এসে দেখি আমার দোকান নাই। সাহাব উদ্দিনের লোকজন এসে ভাংচুর করে চলে যায়।’

তবে এর আগে সন্ধায় লালপোলে সাহাব উদ্দিনের প্রতিপক্ষ বেদে পল্লীর মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের ভাই পারভেজের সাথে কথা কাটাকাটি হয় বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মূলত মাদকের নিয়ন্ত্রণের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেদে পল্লীতে মোহাম্মদ সোহেল নামে একজন মাদকের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তার সাথে মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাহাব উদ্দিনের বিরোধ রয়েছে।

চাঁদা ও নারী না দেওয়ায় হামলা চালিয়েছে
সাহাব উদ্দিন, অভিযোগ বাসিন্দাদের

‘চাঁদা ও নারী না দেওয়ায় হামলা চালিয়েছে সাহাব উদ্দিন ‘এমন অভিযোগ লালপোলের বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের। বাসিন্দারা জানায়, প্রতিদিন বেদে পল্লীর প্রতিটি ঘর থেকে ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা চায় সাহাব উদ্দিন। পাশাপাশি রাতে নারীদেরও চায় সে।

ফারুল আক্তার ফেনীর সময়কে বলেন, ‘সাহাব উদ্দিন চাঁদা চায় প্রতি ঘর থেকে ৫শ থেকে ১হাজার টাকা করে। সে প্রতিদিন এসে নারীদেরও অনৈতিক কাজে চায়। চাঁদা ও নারী না দেওয়ায় সে হামলা জানিয়েছে।’

মোশরা বেগম বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় সাহাব উদ্দিন আমাদের বাড়ীঘর ভাংচুর করেছে। সে প্রতি রাতে নারী চায়। না দিলে আমাদের মারধর করার হুমকি দেয়। আমাদের সন্তানদের গাঁজা বিক্রি করে খায় বলে হুমকি দেয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের ভয় হয়। এখন বলবো তো রাতে এসে আবার ভাংচুর চালাবে। সে মূলত চাঁদা না দেওয়ায় ভাংচুর চালিয়েছে। তবে তার সাথে এখানে কিছু লোক জড়িত।’

এছাড়া লালপোলে বাজারে সে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে থাকে বলে অভিযোগ দোকানদারদের। সামান্য কিছু হলে যাকে তাকে মারধর করে সে। এক সময় সিএনজি চালক হলেও তার রয়েছে বালু ও ইটের ব্যবসা। রয়েছে দোকানও। এ নিয়ে ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ দোকানদারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘সাহাব উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে সবাই অতিষ্ঠ। মাদক থেকে শুরু করে এমন কিছু নাই যা সে করে না।’

যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি অস্বীকার করে সাহাব উদ্দিন ফেনীর সময়কে বলেন, ‘সেখানে মাদকের আড্ডা। আমি তিন-চার মাস আগে চেষ্টা করছিলাম, বহুত লেখালেখি করছি। একটা চক্র টাকা পয়সা দিয়ে সড়কের উপর তুলে ফেলছে। কাল যখন মাদক ঢুকছে, তখন আমি দৌড়ে গিয়ে পাইনি। যারা টাকা খাইছে, তারা ঢুকে আমি চলে আসার পর, এ হামলাটা তারা করছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনছে, এগুলা মিথ্যা। আপনি প্রয়োজনে লালপোলের প্রতিটা দোকানকে জিজ্ঞেস করেন। তারা বলবে আমি কেমন।’

বেদে পল্লীর মাদক নিয়ন্ত্রণ করে সোহেল

বেদে পল্লীর মাদকের নিয়ন্ত্রক করে মোহাম্মদ সোহেল। সে বেদে পল্লীর দক্ষিনের পশ্চিমে দোকান করে থাকে। হামলার সময় সে দোকানটি ভাংচুর করা হয়েছে। দোকানের আড়ালে সে মাদকের ব্যবসা করে বলে জানা যায়।

বেদে পল্লীর এক বাসিন্দা বলেন, ‘সোহেল মদ, গাঁজা থেকে শুরু করে সব বিক্রি করে থাকে। মূলত রাতে যে ঝামেলা হইছে তা নিয়ন্ত্রণ নিয়েই হইছে। সোহেল এখান দিয়ে দোকান করে, আর ওখান (উত্তর পাশ) দিয়ে তার খালাতো ভাই দেখে। তার ভাই পারভেজও এসব দেখে। মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই এ ঝামেলা।’

অবশ্য সোহেলের বিষয়ে একই বক্তব্য সাহাব উদ্দিনেরও। সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সোহেল এখানের ডন। এখানে সোহেল, শিরিনা, মোটা রুবেল, প্রোক্সি রুবেল, বাবলু, সোহেলের ভাই পারভেজ এরা মাদক ব্যবসা করে। সোহেলের এটা দোকান না, এটা দোকানের নমুনা। মাদকের নমুনা। সেখানে ৮০ টা পরিবার আছে। এদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ টা পরিবার মাদকের ব্যবসা করে। সোহেল প্রতিটা পরিবার থেকে ৫০০ টাকা করে নেয়।’

এ বিষয়ে জানতে সোহেলকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন