হোসাইন সুজন :
ফেনীতে দীর্ঘদিন পর বৃহৎ পরিসরে রুকন সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী। শহরের কিং অব ফেনী কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেড় সহস্রাধিক রুকন অংশ নেন। জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের পরিচালনায় সম্মেলনে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। নেতৃবৃন্দ রুকনদের সাংগঠনিক মান উন্নয়নের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সদস্য সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহের বলেন, ‘নির্বাচন হচ্ছে প্রতিনিধি নির্বাচনের সর্বোত্তম পন্থা। এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি বিষয় দাবি দিয়ে ফাইট চলছে। প্রেসিডেন্ট ভোট হবে গোপন ব্যালটে। এটা জামায়াতে ইসলামীর প্রথম বিজয়। পরমাণবিক বোমা তৈরি করা ছাড়া পৃথিবীতে যত কাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো নির্বাচন। ফেল করা সহজ, পাস করা কঠিন। ফেল করতে চাইলে নাকে খাঁটি সরিষা দিয়ে ঘুমান। নির্বাচনের প্রথম শর্ত প্রার্থীদের ৮০ পার্সেন্ট মানুষ চিনতে-জানতে হবে। জামায়াত কখনো দুটো দলের একটা হতে পারে না। দল ব্যান করেছিল, রেজিস্ট্রেশন, প্রতীক ছিনিয়ে নিয়েছিল, সব ফিরে পেয়েছি। আওয়ামী লীগ থাকলে এই অবস্থানে যেতে আরো কুঁড়ি বছর লাগতো। এখন বিশ্রাম ঠিক না। ক্লান্তিকে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। আগে ৫০ জন মিটিং করলে ৩০ জন পাহারা দিতো। এখন মাঠ অনেক উর্বর। এখন বিরামহীন নির্বাচনী কাজ করতে হবে। নির্বাচনে জিতলে ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করা হবে পরিকল্পনাভিত্তিক।’
সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল আবু তাহের মোহাম্মদ মাছুম বলেছেন, ‘অন্যদের তৈরি করার দায়িত্ব রুকনদের। তৃণমূল থেকে দক্ষ, যোগ্য, কর্মী এবং মানসম্পন্ন রুকনরূপে গড়ে তুলতে হবে। গ্রামগঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় রুকন বাড়াতে হবে। তাহলে ভোট ডাকাতি, কালো টাকা পাচার ঠেকতে হবে। জামায়াতের আন্দোল মানুষের মুক্তির আন্দোলন। নিজেদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। শাসক হবে না, সেবক হবেন। কথা-কাজের গরমিল পরিহার করতে হবে। চলছাতুরি, মুনাফিকি থাকবে না। জনগণ যখন আমাদের গ্রহণ করবেন তখন কেউ বিপ্লব ঠেকাতে পারবে না। ভোটের জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবো। তাহলে সমাজে এর নৈতিক প্রভাব পড়বে। চারিত্রিক মাধুর্যতা ছড়িয়ে দিতে হবে।’
অপর সহকারি সেক্রেটারী মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, ‘আমাদের ক্লাইমেট এক্সচেঞ্জের ধারণা নাই। স্বাস্থ্য নিয়ে ভালো তথ্য নাই। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যেসব সেক্টর প্রভাবিত হয় এসব নিয়ে আমাদের সবার কাছে তথ্য থাকে না। জামায়াতে ইসলামীকে সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণের সাথে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ মেলাতে হবে। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ। ভারসাম্যহীনতা বিরাজমান রয়েছে। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে। সমানভাবে অগ্রগামী থাকতে হবে। এক-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ইসলামী ভাবধারা-বর্জিত এনজিওর প্রাধান্য বেশি। এক্ষেত্রে প্রতিটি জামায়াত কর্মীকে সমাজকর্মীর ভূমিকা রাখতে হবে। মাঠপর্যায়ে সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে নেতাদের নির্দেশনার আলোকে গঠনের আহবান জানান।
এছাড়া আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরের উত্তরের সহকারি সেক্রেটারী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ।