মার্চ ৬, ২০২৬ ০৮:২৮

পরশুরামে বন্যায় কেড়ে নিলো ঘর-বাড়ি ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে হতাশা

মো: মহিউদ্দিন :
পরশুরামে আবারও ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট। বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, নদীর বাঁধ, শিক্ষা সর্বত্র ক্ষতি আর ক্ষতচিহ্ন। টানা বৃষ্টি আর উজানের পানির স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে ঘরবাড়ি। ভেঙ্গে গেছে সড়ক। অনেক সড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে ফসলের জমি। ক্ষতি হয়েছে ঘরের নিত্যব্যবহার জিনিসপত্র। ব্যবহার করার মত নেই জাজিম, তোশক, বালিশ এবং শখের ফ্রীজটিও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি কমতে শুরুতে, বেড়িবাঁধ, রাস্তা, কাঁচা বাড়ি ঘরের ক্ষত স্পষ্ট হচ্ছে। পরশুরাম উপজেলায় গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতে আবার বন্যায় বাউরখুমা, বাউর পাথর, দুবলা চাঁদ, খোন্দকিয়া, মির্জানগর, জয়ন্তী নগর, মনিপুর, পশ্চিম সাহেব নগর, গদানগর, পশ্চিম অলকা, ধনিকুন্ডা, রামপুর দূর্গাপুর, সলিয়া, চিথলিয়া সাতকুচিয়া, বেড়া বাড়িয়া, টেটশ্বর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জানা গেছে, বন্যার পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠলেও মানুষ এখন দৈনন্দিন খাদ্য সামগ্রী ও আবাসস্থল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মির্জানগর ইউনিয়নের মেলাঘর গ্রামের ইয়াকুব আলী জানান, আঁই রিকশা চালায় ভাত খাই। টানা বৃষ্টি আবার উজানের পানি আসার কারণে রিকশা চালচল বন্ধ। ছেলে মেয়ে মা এবং আমার পরিবার আছে আঁই কি খাই বাঁচমু। ঘরে মা বাপ, হুলা মাইয়া সহ ৬ জন। আল্লারে আঁই কেন্নে বাচমু কে আঁরে খাবাইব।

চিথলিয়া ইউনিয়ন শালধর গ্রামের আকবর ভূইয়া বলেন, আঁর জিন্দেগীতে এইচ্চা হানি দেইনো। আঁর ঘরত কিচ্ছু নাই। কিছু দিন হইছে কিস্তি লই ফ্রিজ নিছিলাম। আঁর আইসের জিনিস শেষ। সিএনজি ডুবি নষ্ট হয়েছে। কেন্নে সিএনজি ঠিক কইতাম, আর কেন্নে কিস্তি চালাইমু । এই চিন্তায় ঘুম নাই।

বক্স মাহমুদ ইউনিয়নে টেটশ্বর গ্রামের বাবুল সাহা বলেন, দাদারে আঙ্গো কিছু নাই। সব নষ্ট হয়ে গেছে।গতবছর বন্যায় মানুষের ক্ষতি হলেও ত্রাণ ছিল প্রচুর এবছর কোনো ত্রাণ নেই।

শালধর গ্রামের মানিক বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না।স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। স্থায়ী ভাবে বেড়িবাঁধ মেরামত না হলে সরকারের বড়ো বড়ো বাজেট নেতা এবং ঠিকাদারের পকেটে যাবে।

পরশুরাম বাজারের বিসমিল্লাহ ফিসারী রফিক চৌধুরী জানান জানান, পরশুরাম উপজেলায় আমার ৬০টি পুকুর ছিল। একটি পুকুরের মাছ নেই। ৫ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। শুধু আমার নয় ৯৫% ফিসারী ধরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, বৃষ্টি শুরুতে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বানবসি মানুষ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবার, ঔষধ, মোমবাতি, পানি, ওষুধপত্র বিতরণ ছিল এখনো অব্যাহত রয়েছে। যতটুকু সম্ভব হয়েছে উদ্ধার এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন