নিজস্ব প্রতিনিধি :
চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনে যখন কয়েকজন জড়ো হয় প্রতিবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে তখন গ্রাফিতি আঁকার। প্রশাসনের পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে গ্রাফিতি আঁকাতো দূরের কথা, শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়া ছিল দুষ্কর। ২৭ জুলাই রাতের শহরের তাকিয়া রোড সংলগ্ন পানির ট্রাংকি রোডে ১০-১২ জন ছাত্র-ছাত্রী জড়ো হয়ে আঁকা শুরু করে গ্রাফিতি। প্রথমবারের মতো গ্রাফিতিতে ‘শিক্ষা-ছাত্রলীগ এক সঙ্গে চলেনা’ আঁকা হয়। রং-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠা প্রতিবাদে মাত্রা যোগ হয় কয়েকগুন। দিনেদিনে দেওয়াল লিখন আর গ্রাফিতিতে সাজে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা। এখনো সেই চিত্র জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে সরকার পতনের ইতিহাস দেওয়ালে দেওয়ালে দৃশ্যমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, ডাক্তারপাড়া, কলেজ রোড, মাস্টারপাড়া, মিজান রোড, রাজাঝির দিঘীর পাড় ও মুক্তবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে সচেতনতার পাশাপাশি শোভা পায় শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আঁকা রঙিন গ্রাফিতি। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলাগুলোতেও তারুণ্যের রং-তুলিতে ফুটে উঠেছে গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো আবু সাঈদের রক্তাক্ত সেই ছবি।

এসব গ্রাফিতিতে ‘৩৬ শে জুলাই’, ‘বিকল্প কে? আমি, তুমি, আমরা’, ‘বিকল্প কে? ছাত্র’, ‘কারার ঐ লৌহকপাট’, ‘এবার সভ্যতা আনব’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, সংস্কারও আনবো’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’, ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’ ‘রাজনীতি করলে দুর্নীতি ছাড়েন, দুর্নীতি করলে রাজনীতি ছাড়েন’, ‘পলকে পলকে ইন্টারনেট শেষ’, ‘আমরা হার মানবো না’, ‘২৪-এর তারুণ্য’, ‘দেশকে ভালোবাসলে আগলে রেখো’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার হে’, ‘ভয়ের দেওয়াল ভাঙলো, এবার জোয়ার এলো ছাত্র-জনতার’, ‘রক্তাক্ত জুলাই ২০২৪’ সহ আন্দোলনের নানা চিত্রে দেয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে আঁকিঝুঁকি।|
রহমত আলী মানিক নামে একজন জানান, ‘সেদিন রাতে ১০-১২ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে গ্রাফিতি আঁকতে চাই। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন ওই কর্মসূচীতে রঙ-স্প্রে কেনার জন্য ১ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। যখন গ্রাফিতি আঁকা শেষ হয় তখন সেখানে থাকা সবার মাঝে প্রতিবাদি ঝড় আরো বেগবান হয়। গণমাধ্যম ও ফেসবুকে গ্রাফিতি আঁকার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট সরকার পতনের মধ্য দিয়ে গ্রাফিতি সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে।’
ওই কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিল ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা স্নেহা। তার মায়ের ভাষ্য, ঝুঁকি জেনেও মেয়েকে আন্দোলনে দিয়েছিলাম। এখনো কাঙ্খিত পরিবর্তন হয়নি। আশা করছি ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশ বৈষম্যহীন হবে।