নিজস্ব প্রতিনিধি :
চব্বিশের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ক্রমেই রুপ নেয় গণআন্দোলনে। একপর্যায়ে সেটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী এক দফায় পরিণত হয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। ছাত্রদের সেই আন্দোলনে অংশ নেয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ। আন্দোলনের ব্যপ্তি ছড়িয়ে পড়ে জেলা শহরেও। ঢাকার সাথে কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে ফেনীতেও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের (তৎকালীন সরকার দলীয়) দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। তৎসময়ে দৈনিক ফেনীর সময় এ প্রকাশিত সংবাদে এসব তথ্য উল্লেখিত রয়েছে।
সংবাদের আর্কাইভে উল্লেখ রয়েছে, ১৬ জুলাই শহরের ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোটা সংস্কার দাবীতে আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের বিচার দাবীতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে হামলা চালায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের তৎকালীন সভাপতি মফিজ উদ্দিন মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনকারীদের মারধর করে তাদের ব্যানার কেড়ে নিয়ে যায় তারা। এরপর কোটা আন্দোলন ইস্যুতে ১৯ জুলাই ও ২১ জুলাই পৃথক দুটি ঘটনায় এসআই আল আমিন ও এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৪শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। শুরু হয় ধরপাকড়। প্রথমদিনেই (২৪ জুলাই) সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর যুবলীগ-ছাত্রলীগের সহযোগিতায় পুলিশ ১০ দিনে ৯০ জনকে গ্রেফতার করে। আন্দোলনকারীরা সহ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতংকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ায়।

ফেনী শহর জামায়াতের তৎকালীন আমির মুহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, “১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় পুলিশের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর ৪টি মামলায় শোনঅ্যারেস্ট দেখানো হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট মুক্তি পাই”।
সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর নবী জানান, “পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাকে ধরে পুলিশে দিয়েছিল।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক অবদুল কাইয়ুম সোহাগ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনি গ্রেফতার সহ নানা ধরনের হুমকিধামকি দেয়। সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল মাহফুজ সহ আমাদের কয়েকজন ভাইকে পুলিশ অন্যায়ভাবে তুলে নিয়ে যায়। কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। অন্যদের মামলা না থাকা স্বত্ত্বেও কারাগারে প্রেরণ করে। ছাত্র-জনতার বিজয়ের পর তারা মুক্তি পায়।”
ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সামছুজ্জামান জানান, “আসামি সনাক্ত না হওয়ায় ওই দুটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে।”