মার্চ ৬, ২০২৬ ০৪:২৯

রক্তাক্ত জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রামে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিনিধি :
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে গণগ্রেফতার আতংক, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের অব্যাহত হুমকি-ধামকির মধ্যেও কোটা সংস্কার আন্দোলন জিইয়ে রেখেছিল একদল ছাত্র-যুবক। গত বছরের ২৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা যখন অস্ত্রের মুখে জিম্মি হয়ে বিবৃতি দেয় তখন এর প্রতিবাদে পরদিন ২৯ জুলাই ফেনী শহরের রামপুর লাতু মিয়া সড়কের মাথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে অসীম সাহস দেখায় শিক্ষার্থীরা। সেদিন তারা মামলা প্রত্যাহার এবং হত্যাকান্ডে জড়িত সবার পদত্যাগের দাবিও জানায়। তাদের অবরোধে চট্টগ্রামমুখী লেনে দুই কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি রামপুর লাতু মিয়া সড়ক হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে উঠে। সেখানে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে অগ্নিঝরা শ্লোগান দেয়। আধঘন্টা ধরে অবস্থানের পর ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা সড়ক থেকে সরে যায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল আজিজ বলেন, “৬ জুলাই আন্দোলন শুরু হলেও ১৭ তারিখ থেকে আন্দোলনের গতি বেড়ে যায়। এতে নানা শ্রেনি পেশার মানুষ অংশ নেয়। আন্দোলনে গুলিতে হতাহত, গ্রেফতারের ভয় তো ছিলই। এসব কিছুকে উপেক্ষা করে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়।”

আরেক সহ-সমন্বয়ক সালমান হোসেন জানান, “আন্দোলনের শুরুর দিকে যারা অংশ নিতো তাদের নাম-মোবাইল নাম্বার লিখে রাখতাম। ছাত্র সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে সমন্বয় করতাম। ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে কথোপকথনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে দায়িত্ব বন্টন করে দিতাম।”

সালমান আরো জানান, “দমন-পীড়ন আমাদের থামাতে পারেনি। সবাই বিচ্ছিন্ন হলেও পুনরায় একত্রিত হতাম। বিভিন্নসময় পশ্চিম বিজয়সিংহ এলাকার বাড়িতে সাদা পোশাকে পুলিশ অভিযান চালায়। সেইসময়ে প্রতিবেশীদের ঘরে অবস্থান করতাম। সবশেষ ফ্যাসিবাদ পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট মহিপালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আমার শরীরে ১১টি বুলেট বিদ্ধ হই। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থেকে আল্লাহর অশেষ রহমতে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাই।”

ভারতের শিমলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব জার্নালিজম এন্ড মাস কমিউনিকেশন শেষ করা প্রিন্স মাহমুদ আজিম জানান, “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অমানবিক অত্যাচারের শিকার হই। ১৮ জুলাই ও ২০ জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হই। বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন