ইংরেজি শব্দ ‘মব’-এর অর্থ ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’। আর সরল ভাষায়, এই বিশৃঙ্খল জনতা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে সহিংসতা করলে তাকে ‘মব জাস্টিস’ বা ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার’ বলে। ২ মে রাতে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে দুই কিশোরের নামে মুরগি ও কবুতর চুরির অভিযোগ এনে তাদের ময়েদের নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। ফেনীতে দুই কিশোরের কবুতর ও মুরগি চুরির অপরাধে গ্রাম্য সালিসে জনসমক্ষে দুজনের মাকে নাকে খত দিতে বাধ্য করার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মব জাস্টিসকারী ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতিত নারী (প্রথম আলো)। বিএনপি নেতা ও পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন কথিত বিএনপি নেতা দেলুর কান্ড! ছেলের চুরির অপরাধে দুই মাকে নাকে খত। যাহা সারাদেশের মধ্যে আলোচিত ঘটনা।
ফেনী জেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএনপির নামে মব জাস্টিজ চলছে। দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক দ্বায়ী ব্যক্তিদের ৪৮ ঘন্টার ভিতর গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে যখন সাংবাদিক, সুশিল সমজের প্রতিনিধি সোচ্চার হয়ে তখন ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে বহিস্কার করেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০২০, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি আইন এবং ২০০০ সালের নারী বা শিশু নির্যাতন আইন লংঘন করা হয়েছে বিধায় দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইউনিয়নভিত্তিক চাঁদাবাজি, দখলদারি, পেশিশক্তি এবং মব জাস্টিজ বন্ধ করতে হলে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিন।
ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ছেলেদের অপরাধে সালিস ডেকে মায়েদের নাকে খত দিতে বাধ্য করায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপরাজিতা দাশের আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাইদুর রহমানকে নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত সাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি ধারণ, ভাইরাল হওয়া সংবাদ ও ভিডিও চিত্রের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফেনীতে নুসরাত হত্যাকারীদের বিচারের মতো মব জাস্টিজের দ্রুত বিচার চাই। বিচার চাই। নারী ও শিশু নিয়াতন আইন ২০২০ ভংগ করাই ফৌজধারী অপরাধ। পুলিশ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলা গ্রহণ ও আসামি গ্রেফতার করে। নিম্ন আদালতে আসামি জামিন পেয়ে গেলে নারী ও শিশু নিয়াতন আইন ২০২০ এর যৌক্তিকতা কি? ফৌজধারী আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ করার পরও আদালত জামিন দিয়ে থাকে। তাহলে যে নারীর সামাজিক অধিকার ও সন্মানহানী হলো তার শাস্তি কে দিবে। যদি আইনে আটকে রাখার বিধান না থাকে তাহলে দেশটি আসামিদের নিকট ইজারা দেওয়ার বিধান করা উচিৎ। চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, মব জাস্টিসকারী এবং লুটেরা সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে অনুসোচনা না করে আরও বড় অপরাধ করবে, এর দ্বায়ভার কে নিবে। জাতীয় মানবাধিকার সংগঠন, নারী উন্নয়ন সংগঠন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সাংবাদিক সমাজ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা উচিত। পুলিশ প্রশাসনের উচিত দ্রুত চাজসীট দিয়ে তাদেরকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০২০ নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ এবং সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় এনে প্রাপ্য শাস্তিটুকু নিশ্চিত করা।
ঘটনা-০১: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানা এলাকার আউটার রিং রোডে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, হামলা করে এসআই ইউসুফ আলীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। অসহায় অবস্থায় অঝোরে কাঁদছেন তিনি। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যখন পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে, তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছি।’ গত ছয় মাসে পুলিশের ওপর এ ধরনের ২২৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। বেশির ভাগ ঘটনা ঘটানো হয়েছে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণে বা ‘মব’ তৈরি করে। পুলিশ যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন হামলা, হুমকি ও আসামি ছিনতাই বাহিনীটিকে নতুন সংকটে ফেলছে। নতি স্বীকার না করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ২২৫টি ঘটনার মধ্যে ৭০টি ঘটনা আলোচনা তৈরি করে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২৪টি, অক্টোবরে ৩৪, নভেম্বরে ৪৯, ডিসেম্বরে ৪৩, জানুয়ারিতে ৩৮ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩৭টি হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের এই পরিসংখ্যানের বাইরেও সড়কে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
মব জাস্টিসের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও মব তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। পেশাদার অপরাধী, এই মব তৈরি করে শুধু পুলিশের ওপরেই হামলা হচ্ছে তা নয়, বরং কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষের ওপরও হামলা বা গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত সাত মাসে দেশে গণপিটুনির অন্তত ১১৪টি ঘটনায় ১১৯ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ৩ মার্চ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছনখোলা এলাকায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে দুজনকে হত্যা করা হয়। পরদিন ৪ মার্চ মধ্যরাতে মব তৈরি করে রাজধানীর গুলশানে একটি বাসায় তল্লাশির নামে মালামাল তছনছ, ভাঙচুর ও লুটপাট করে একদল লোক। শুধু পতেঙ্গার ঘটনাই নয়, গত ছয় মাসে পুলিশের ওপর এ ধরনের ২২৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। বেশির ভাগ ঘটনা ঘটানো হয়েছে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণে বা ‘মব’ তৈরি করে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৪ মার্চ ছিনতাইকারী তকমা দিয়ে ইরানের দুই নাগরিককে মারধর করে উচ্ছৃঙ্খল জনতা। এতে ওই দুজন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ইরানের এই দুই নাগরিক ছিনতাইকারী ছিলেন না। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। একপর্যায়ে ছিনতাইকারী তকমা দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়।
বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের মব তৈরি এবং হামলার ঘটনায় পুলিশের সদস্যদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও এসব ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বলছেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে ভঙ্গুর অবস্থা তৈরি হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে একশ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক নেতাদের মতো ভূমিকা এবং গুলি ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কারণে বিক্ষুব্ধ মানুষের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় পুলিশ। এরপর যখন নতুন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে, তখন এ ধরনের হামলার ঘটনাকে বাহিনীর মনোবলের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ ধর্ষণ করার পরও জসিমউদ্দিন মানিকের তেমন কোন শাস্তি হয়নি, সিলেটের খাদিজার, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের তনুর, সুবর্ণ চরের মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ, বরিশালের বানারী পাড়ার মা মেয়েকে একসাথে ধর্ষণ.আরো কয়েক হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এদেশে, ৯৭% ভিক্টিম ন্যায্য বিচার পায়নি, কোনটার শাস্তিই ফাঁসি হয় নি!! বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ধর্ষণের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে বরাবরই খুবই অপেশাদারিত্ব ও অদক্ষতা দেখিয়েছে। এমন না যে আইনে দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তির বিধান নেই। সবই আছে। নাই শুধু একটা বিষয়, কার শাস্তি হবে আর কার শাস্তি হবে না- তার নিশ্চয়তা। কার শাস্তি হবে না এটা নির্ভর করে সরকারী দলের আর্শিবাদ আর ধর্ষকের টাকার বা তদবিরের গরমের উপর। যেমন জাহাঙ্গীরনগরের জসিমউদ্দীন ১০০ ধর্ষণ করার পরও তার কিছুই হয়নি, সে এখন দিব্যি কানাডাতে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। কারণ সে ক্ষমতাশীন দলের নেতা ছিল।
পৃথিবীর সব দেশেই ধর্ষণের বিচারের জন্য বিভিন্ন ধরণের আইনের ব্যবস্থা আছে। যেমন আমেরিকায় ৩০ বছর, রাশিয়ায় ২০ বছর পর্যন্ত জেল, পোল্যান্ড,মিডল ইস্ট এবং আরব দুনিয়ায় মৃত্যু দন্ড । সবচেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয় চায়নাতে। সে দেশে কোন বিচারের বালাই নেই। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে মৃত্যু দন্ড অবধারিত। বাংলাদেশ এটাই দরকার।