মার্চ ৬, ২০২৬ ০৭:০৪

দারোগারহাট আলিম মাদরাসায় ৫ বছরেও ভবন নির্মাণ শেষ হয়নি

আরিফ আজম :
ভবনের বিভিন্ন অংশে স্যাতস্যাঁতে। র‌্যাম্পে ঘাস আর কাঁদামাটি। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ৫ বছরেও এটি বুঝে পায়নি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে বসার সুযোগ পাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটে শত শত শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিনে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের দারোগারহাট আলিম মাদরাসায় এ দৃশ্য দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে ২০১৮ সালে ‘নির্বাচিত মাদরাসার উন্নয়ন’ প্রকল্পে দারোগারহাট আলিম মাদরাসার অবকাঠামো নির্মাণে ৪ তলা বিশিষ্ট সাইক্লোন শেল্টার কাম একাডেমিক ভবন অনুমোদন দেয়া হয়। ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় দুইবার সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরি ট্রেডার্স।

জানা গেছে, মাদরাসায় ৭শ ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদরাসায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে পুরোনো জীর্ণশীর্ণ ভবনের ৭টি শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান জানান, মাদরাসায় শৌচাগারের বেহাল দশা। ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করলেও ছাত্ররা তৎসংলগ্ন মসজিদের শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়।

আরেক শিক্ষার্থী আবদুর রহমান জানান, নির্মাণাধীন নতুন ভবনের নিচতলায় সাময়িক শ্রেণি কার্যক্রম হলেও ফ্যান না থাকায় ভোগান্তি হয়। পুরোনো ভবনের দরজা-জানালা ভাঙা।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাহাব উল্যাহ সোহেল ফেনীর সময় কে জানান, শুরুর দিকে তহবিল সংকটের কারনে কাজে বিলম্ব হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফিটিংস, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে ভবন বুঝিয়ে দেয়া যাবে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা একরামুল হক ফেনীর সময় কে জানান, ঠিকাদারকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেন না। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় শিক্ষা প্রকৌশলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরীক্ষার সময় সীমিত স্থান সংকটের কারণে তিন-চারজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে বসতে হচ্ছে। যা স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করছে।

মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মোস্তফা খোকন ফেনীর সময় কে জানান, দীর্ঘদিন ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিলো। কিছুদিন আগে ঠিকাদারকে ডেকে নিয়ে প্রকৌশলী নির্মাণ কাজ শেষ করতে তাগিদ দিয়েছেন।

জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাসেল ফেনীর সময় কে জানান, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারকে দুইবার চিঠি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন