তালতো ভাই-খালতো ভাই পরিচয়ে বাজে লোকদের
-ভিপি জয়নাল
বিএনপির সদস্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা
নিজস্ক প্রতিনিধি :
ফেনীতে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণিল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপন হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে ট্রাংক রোডে প্রেসক্লাবের সামনে শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। জেলা আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জালাল আহমেদ মজুমদার ও আবু তালেব প্রমুখ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক, গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা আহবায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল ও সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ।
অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালিয়ে চিরবিদায় নিতে হয়েছে। বিগত ১৫ বছর তার মেয়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়েছেন সেই জন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে বেগম খালেদা জিয়া সালাম পৌঁছে দিতে হবে। সবাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য তৈরি হয়ে যান। আপনারা ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলতে হবে। বিএনপি যেন বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারেন।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন চলমান রয়েছে। সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সজাগ থাকতে হবে কোন অবস্থায় কেউ যেন স্বার্থের বিনিময়ে বিএনপির সদস্য পদ দেয়া হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান পেলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে। আগামীতে ইনশাল্লাহ বিএনপি ক্ষমতায় আসতে এতে কোন সন্দেহ নেই। এদেশের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমাদের মাঝে নারীরা হচ্ছেন অধিকাংশ ভোটার। তাই নারীদের সম্মান ও গুরুত্ব দিতে হবে। মা-বোনদের মাঝে খালেদা জিয়ার সালাম পৌঁছে দিবেন।’’
আবু তালেব বলেন, ‘‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হলে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। এটি দেখে কিছু মানুষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। একটি দল জাতির সঙ্গে বারবার বেঈমানী করে আসছে। আমি সেই দলের নাম ধরতে চাই না, সেই দলের নাম সবাই জানেন। বিগত ৪৭ বছরে বিএনপির অনেক গৌরবোজ্জল ইতিহাস ও অবদান রয়েছে। আগামী নির্বাচনে ফেনীর ৩টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাত আরো বেশি শক্তিশালী করতে হবে। সেই জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’’
শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘‘রাজনীতিতে ডিসকোয়ালিফাইড শেখ হাসিনা যেন আর বাংলার মাটিতে ফিরে রাজনীতিতে আসতে না পারে সেই জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যে কোন মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করার জন্য সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান তিনি।’’
আলাল উদ্দিন আলাল বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধৈর্যের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। কোন অবস্থায় ধৈর্যচ্যুত হওয়া যাবেনা। বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে। এখানে কোন হঠকারীর জায়গা হবে না। পিআর বলে কোন লাভ হবে না। পিআর এদেশে সাধারণ মানুষ বুঝে না। নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করবেন না। ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠিত হতে দিতে দেয়া যাবে না। এদেশের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগে বিশ্বাসী। সারা দেশ নির্বাচনমূখী হয়ে উঠেছে। সুতরাং এটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সুযোগ নেই।
গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক বলেন, ‘‘বিএনপি এদেশে গণমানুষের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় দল। এদেশের শান্তিকামী মানুষ সবসময় বিএনপির উপর আস্থা ও ভালোবাসা আছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁদে কাদ মিলিয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।’’
আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি আজ ৪৭ বছর পর হাজারো জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও সর্ববৃহৎ ও গণমানুষের কাছে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। আগামী দিনে দেশ নির্মাণে তারেক রহামানের নেতৃত্বে অতীতের ন্যায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবো। দেশ অনেক চড়াই-উতরাই এখন নির্বাচনী রোডম্যাপে রয়েছে, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীরা প্রাণপণ কাজ করতে হবে।’’
মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন, জেলা যুবদল আহবায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার ও সদস্য সচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকের হোসেন রিয়াদ পাটোয়ারী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল ও শওকত আলী জুয়েল পাটোয়ারী, ওলামা দলের আহবায়ক হাফেজ মিজানুর রহমান, মহিলা দলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজী, সাধারণ সম্পাদক জয়নব বানু ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা রহমান প্রমুখ।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শোভাযাত্রাটি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।