মার্চ ৬, ২০২৬ ০৫:৪৬

ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ এবং জুলাই বিপ্লব

খন্দকার নাজমুল হক

খন্দকার নাজমুল হক :
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং দুই হাজার চব্বিশের রক্তঝরা বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী শতবর্ষ এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর গৌরবোজ্জল ইতিহাসকে আরো সমুজ্জল করবে এবারের ডাকসু নির্বাচন। ফ্যাসিবাদের দোষরদের আমলে ছাত্র সংগঠনগুলোর বৈশিষ্ট্য ছিল মাদকাসক্ত, নারী নিযাতন, সীট বানিজ্য, গণরুম কালচার, জোর করে মিছিলে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বড়ভাই কালচার, আধুভাই ছাত্রনেতা তৈরি এবং অস্ত্রের ঝনঝনানির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে দাগ কেটে দিয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবী শিক্ষা ও গবেষণার গতি বাড়ানোর জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা ইনক্লুসিভ প্যানেলের দিকে এগিয়ে যাবে। জুলাই বিপ্লবের পরে অনেক নাটকীয় ঘটনার সুত্রপাত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামী ছাত্র শিবির এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ৩৬ জুলাই থেকে বিপ্লবের অংশীদার হিসেবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। ডাকসু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে ৫টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। বাম জোট, সতন্ত্র প্যানেল, বাগছাশ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট । তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রবিন্দু ইনক্লুসিভ প্যানেল হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলের সাথে লড়াই হবে। এক্ষেত্রে ছাত্রদল অথবা ছাত্রশিবির এর প্যানেল জেতার সম্ভাবনাই বেশি। বামদলের ছাত্র সংগঠন জনবিচ্ছিন্ন। ফ্যাসিবাদের দোষরদের সহযোগি ইনু মেনন দিলিপ বড়ুয়াদের কারণে বাম ছাত্র সংগঠনের কোন জনপ্রিয়তা নেই। যার ফলে বামদল থেকে শিবিরের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে জিএম এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট এ রীট দায়ের করেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে জিএস প্রাথী এস এম ফরহাদকে নিয়ে হাইকোর্ট এর রায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেলকে এগিয়ে রাখবে।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেল ডাকসু নির্বাচনের শুরুতেই সবার আগে চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছ। ক্যাম্পাসে বহুল পরিচিত এবং সেরা একঝাঁক মেধাবীদের সমন্বয়ে বহুবৈচিত্রময় ‘দুর্ভেদ্য প্যানেল’ ঘোষণা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে শিবির। এটা তাদের বিজয়ের জন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গুঞ্জন তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনগুলোর সম্মিলিত স্বেচ্ছাচারিতা এবং চরম জুলুম নির্যাতনের শিকার ইসলামী ছাত্রশিবির স্বাভাবিক কারনেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাবে বেশি। সর্বদলীয় এবং বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর জোটবদ্ধ বিরোধীতার মুখেও ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেল টিকে থাকায় শিবির স্বভাবতই এবার তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দেখাতেও কার্পণ্য করবে না। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে সংগঠনটির আপসহীন অগ্রনী ভুমিকাও এবারের ডাকুস নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেল এগিয়ে রাখতে সহায়ক হবে। এছাড়াও নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, নির্দলীয় শিক্ষার্থীদের নিরব সমর্থন, বিতর্কিত প্রতিপক্ষের দলীয় কোন্দল, এবং শিক্ষার্থীদের তিক্ত অভিজ্ঞতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ৬টি কারনে এবার ডাকসু নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেলকে জিতিয়ে দিতে পারে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কুরবানী ফেস্টিভ্যাল, রমজানে ফুড প্যাকেজ, মেডিকেল ক্যাম্প, হলে হলে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে ছাত্র ছাত্রীদের মনজয় করেছে। এছাড়া জিএস প্রাথী এস এম ফরহাদকে নিয়ে হাইকোর্ট এর রায়ের ফলে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেলকে এগিয়ে রাখবে।

বাংলাদেশের দদ্বিতীয় সংসদ’ নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠা ‘ডাকসু’ ঠিক একশ বছর পর এবারই নতুন আরেক ইতিহাস নির্মান করতে যাচ্ছে। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ডাকসু ২০২৫ সালে এসে যে বাঁকবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানেও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসু ও ১৮টি আবাসিক হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। আমান খোকন পরিষদ বিজয়ী হয়ে জেনারেল এরশাদের পতন ঘটিয়ে ছিল। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার জন্য রায় দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এরপর ২০১৯ সালের ১১ই মার্চ সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হয়েছিল নুরুল হক নুর। গত ৩০ আগষ্ট ভিপি নুরের উপর পুলিশ সেনাবাহিনীর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা! জুলাই বিপ্লবের অংশীদারদের জীবনের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিরপেক্ষ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর নিকট ভিপি নুরের নিরাপত্তা নেই!!

টানা ৬ বছরের বিরতির পর ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের পথ ধরে এবছর আবার ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে, হেরে যাওয়ার ভয়ে, ঢাবি প্রক্টরের নিকট অভিযোগ না দিয়ে ফাহমিদা হাইকোর্ট এ রীট দায়ের করেছেন। ফ্যাসিবাদের দোষরমুক্ত ডাকসু নির্বাচন হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ প্রদান করা জুলাই বিপ্লবের উপর কঠিন আঘাত। গণতন্ত্রের প্রথম পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লবীদের পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ঢাবির আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মুনির উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

মাননীয় বিচারক আবেদন গ্রহণ করে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন মাননীয় চেম্বার জজ আদালত। তাই এবারের ডাকসু নির্বাচন দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এবারের ডাকসু নির্বাচনে যে ৬ কারণে শিবিরের প্যানেল বিজয়ী হতে পারে তা নিচে বিশ্লেষন করা হয়েছে।

প্রথমত : ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বা ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল সবাইকে চমকে দিয়ে সবার আগে এমন একটা দুর্ভেদ্য প্যানেল ঘোষণা করেছে, যা ইতিমধ্যেই ইনক্লুসিভ বা ‘বুলেটপ্রুফ প্যানেল’ হিসেবে ক্যাম্পাসে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থী রেজাল্ট সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০। ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীদের প্রতিনিধি হিসেবে সর্ব মিত্র চাকমা, প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি হিসেবে, জুলাই যুদ্ধে চোখ হারানে খান জসীম, অদম্য মেধাবীদের প্রতিনিধি মহিউদ্দিন খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের আপসহীনদের প্রতিনিধি হিসেবে আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ থেকে ফাতেমা তাসনিম জুমা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে টকশোতে হইচই ফেলে দিয়েছে। ছাত্রীদের প্রতিনিধি হিসেবে ৪জন নারী প্রার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতাসম্পন্ন সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়য়ে গঠিত এই প্যানেল প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। বিশেষ করে বাম সংগঠনের লিডারগণ ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে, হেরে যাওয়ার ভয়ে, ঢাবি প্রক্টরের নিকট অভিযোগ না দিয়ে ফাহমিদা হাইকোর্ট এ রীট দায়ের করেছেন। এ কারণেই এরকম একটি প্যানেলের বিজয়ের সম্ভবনা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।

দ্বিতীয়ত : এবারের ডাকসু নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও ছাত্রদলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য অংশীজনদের কাউকে না জানিয়ে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র তোলা ও জমাদানের সময় ১দিন করে বাড়িয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। তবুও এখন পর্যন্ত মোটামুটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন কর্তৃপক্ষ। এটা ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেষ পর্যন্ত যদি এরকম অবস্থা টিকে থাকে, তাহলে শিবিরের প্যানেলের বিজয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

তৃতীয়ত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নির্দলীয় শিক্ষার্থী। এদের ওপরেই নির্ভর করছে ডাকসুতে কারা জিতবে। শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকান্ডের কারনে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষাথীর নিরব সর্মন রয়েছে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রতি। এবারের ডাকসুতে নির্দলীয় ভোটারদের একটা বড় অংশ শিবিরের প্রতি সমর্থন জানাবে। সেই দিক থেকেও শিবিরের জেতার সম্ভাবনা বেশি।

চতুর্থত : জুলাই বিপ্লবের আপসহীন যোদ্ধা চব্বিশের রক্তঝরা জুলাই বিপ্লবে চরম ত্যাগ ও কুরবানীর কারণে মাধ্যমে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে সাদিক-ফরহাদ-মহি জুমা পরিষদের সুনাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্যানেলকেই পছন্দের শীর্ষে রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জিএস ফরহাদের পাশাপাশি বিপ্লবী ভুমিকা রাখছে ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীদের প্রতিনিধি হিসেবে সর্ব মিত্র চাকমা এবং ইনকিলাব মঞ্চ থেকে ফাতেমা তাসনিম জুমার ক্ষুরধার যুক্তি নেটিজনদের নিকট প্রশংসনীয় হয়েছে। যাকে বলে টক অব দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি।

পঞ্চমত: প্রতিপক্ষের দলীয় কোন্দল ছাত্র সংগঠনের বিজয়ের অন্তরায়। দলীয় কোন্দলমুক্ত শিবিরের বিজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনগুলোর দলীয় কোন্দল। যেমন দলীয় কোন্দলের কারনে শিবিরের প্রতিপক্ষরা প্যানেল ঘোষণা করতে না পারায় নির্বাচন কশিন তাদের সুযোগ করে দিতে এক দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দানের সময়সীমা বাড়িয়েছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে, শিবিরের প্রতিপক্ষ প্যানেলের দলীয় কোন্দল ততই বাড়বে। এটা শিবিরের বিজয়ের জন্য একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ষষ্টত : শতবর্ষের ইতিহাসে ডাকসু নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা জমে রয়েছে। ১শ বছর আগে ডাকসুর প্রথম ভিপি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ থেকে শুরু করে ২০১৯ সালে এসে সর্বশেষ ভিপি নুরুল হক নুর পর্যন্ত কারোই পারফরমেন্স তেমন সন্তোষজনক নহে। প্রতিশ্রুতির বিপরীতে শিক্ষার্থীরা বার বার ধোকা খেয়েছেন, প্রতারিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, শিবির বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর মাদকাসক্ত, নারী নিযাতন, সীট বানিজ্য, গণরুম কালচার, জোর করে মিছিলে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বড়ভাই কালচার, আধুভাই ছাত্র নেতা তৈরি এবং অস্ত্রের ঝনঝনানিও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে দাগ কেটে দিয়েছে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের ব্যবসা, অস্ত্রের মহড়া, ছাত্র হত্যাকাণ্ড, আধুভাই ছাত্রনেতা নীরু-অভিদের দাফটের কারণে এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়কে ‘ডাকাতদের গ্রাম’ বানিয়েছিল। এবার তাদের উত্তরসুরীদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বয়কট করবে। শিক্ষার্থীদের এসব তিক্ত অভিজ্ঞতা এবারের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বা শিবিরের পক্ষে কাজ করবে। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবার অন্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বা শিবিরের মেধাবী শিক্ষার্থী প্যানেলের দিকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এতোদিন শিবিরকে ঠেকিয়ে রাখতে প্রতিপক্ষরা যতো কৌশল এবং অপশক্তি ব্যবহার করেছে, তার সবটাই ব্যর্থ হয়েছে। বাম সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে, হেরে যাওয়ার ভয়ে, ঢাবি প্রক্টরের নিকট অভিযোগ না দিয়ে ফাহমিদা হাইকোর্ট এ রীট দায়ের করেছেন। এ কারণেই ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্যানেলের বিজয়ের সম্ভবনা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। এবারের আধুভাইমুক্ত ডাকসু নির্বাচন তাই দেশ ও জাতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিতে পারে বলে আশা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমরা অপেক্ষায় আছি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের প্যানেল এবং ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বা ছাত্র শিবিরের প্যানেল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ডাকসুতে কে বিজয় অর্জন করে।

লেখক : গবেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন