অনলাইন ডেস্ক :
ছাগলনাইয়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) পদে নিয়োগ পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পলাতক নেতা কাজী মুস্তাফিজুর রহমান। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা কাজী মুস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সর্বত্রই প্রশ্ন – একজন পদধারী ছাত্রলীগ নেতা কিভাবে এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং বহাল রয়েছেন ?
স্থানীয়রা জানান , “কাজী মুস্তাফিজুর রহমান নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শুভপুর ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের (২০২৪) পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দলীয় পদে থাকা সত্ত্বেও গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা -৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব সাইদুজ্জামান শরীফ স্বাক্ষরিত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স (নম্বর: বিচার -৭/২-এন-২৬(অংশ)-৫৯) কাজী মুস্তাফিজুর রহমানকে প্রদান করা হয়।”
একই পদে আবেদনকৃত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, “নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হয়েও সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছেন কাজী মুস্তাফিজুর রহমান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের লক্ষ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং কাজী মুস্তাফিজুর রহমান ও তার দুই জন ডামি প্রার্থীকে মনোনীত দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্যানেল প্রেরণ করা হয়। প্যানেল তৈরির দিন অন্য কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন কর্তৃপক্ষের সামনে যেতে দেয়নি ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। “
২০২১ সালে শুভপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ কুহুমা গ্রাম থেকে আপেল প্রতীক নিয়ে মেম্বার পদেও নির্বাচন করেছেন কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।
এ ব্যাপারে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থী নুর মোহাম্মদ ভূঁইয়া হাই কোর্টে একটি মামলা (নং-১০৪৫৮/২০) দায়ের করেন। কোর্ট মামলাটি ৬মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। নুর মোহাম্মদ ভূঁইয়ার অভিযোগ, “মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।”
ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: আলমগীর বিএ বলেন, “ছাত্র – জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা কাজী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি শুনে আমি অবাক হই। কি করে এই নিয়োগ সম্ভব হয়েছে? বিষয়টি তদন্ত করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।”
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা বলেন, “কাজী নিয়োগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। নিয়োগে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে আমার বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী মুস্তাফিজুর রহমান নিয়োগে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, “আইন মন্ত্রণালয় আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। আদালত অবমাননা হয়েছে কিনা সেটা তারা বুঝবেন। আমি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত। “