আবদুল্যাহ আল মাহমুদ ইমতিয়াজ :
খাসাইসে নববী বলতে মহানবী সা. এর সে সকল মর্যাদা ও গুণাবলী, যেগুলো আল্লাহ তায়ালা কেবল রাসূলুল্লাহ সা.-কে দান করেছেন। পৃথিবীর কোন মানুষ তো নয়ই বরং আর কোন নবীকেও সেগুলো দেয়া হয়নি। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন আমাকে এমন কতক বিষয় দান করা হয়েছে যেগুলো আমার পূর্বের কোনো নবীকেও দেয়া হয়নি।
আমাকে সমগ্র বিশ্বের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে, সমগ্র বিশ্ববাসীর প্রতি রাসূল হিসেবে আমি প্রেরিত হয়েছি। আমার পূর্ববর্তী সকল নবী নিজ নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে এরশাদ করেছেন, হে রাসূল! আপনি বলুন হে লোক সকল আমি তোমাদের সকলের প্রতি প্রেরিত হয়েছি (সূরা: আল-আরাফ:- ১৫৮)। মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন আমি আপনাকে সমগ্র মানব জাতীর উদ্দেশ্যে রাসূল করে পাঠিয়েছি (সূরা: সা’বা- ২৮)। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- কত মহান তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্ব জগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন (সূরা: ফুরকান-১)
আমি সর্বশেষ নবী। আমার দ্বারা নবুয়তের ধারা সমাপ্ত। আমার পর আর কোনো নবী আসবেনা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- মুহাম্মদ সা. তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন বরং তিনি আল্লাহর রাসূল ও শেষ নবী (সূরা আহযাব- ৪০)। আল্লাহ তা’য়ালা আরো বলেছেন আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য আমার নেয়ামত সমূহ সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনিত করলাম।
আমাকে জাওয়ামেউল কালিম তথা সর্বব্যাপী বাক্যাবলি দান করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ বাক্য আশ্চর্য ধরণের সংক্ষিপ্ত এবং তার অর্থ আশ্চর্য রকমের ব্যাপক ও সর্বব্যাপী। মহানবী সা. এর অনেক হাদীস এর সাক্ষী। হাদীসগুলোতে সহীহ আকিদা, বিধি বিধান ও নিয়মনীতি বর্ণিত হয়েছে অথচ হাদীসগুলোর বাক্য কতইনা সংক্ষিপ্ত।
আমাকে ভয়ভীতি ও শ্রদ্ধাভক্তি দ্বারা সাহায্য ও বিজয় দান করা হয়েছে। কোন ধরণের বাহ্যিক উপকরণ বা আয়োজন ব্যতীতই এক মাসের পথ দূরত্বে অবস্থানকারী শত্রুর অন্তরে ভয়ভীতি ঢেলে দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে ভয় ঢেলে দিব (আল ইমরান- ১৫১)। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন- তিনি তাদের অন্তরে ভয় ঢেলে দেন (আহযাব- ২৬)।
সমগ্র পৃথিবী আমার জন্য সিজদার উপযুক্ত এবং পবিত্র করা হয়েছে অর্থ্যাৎ পৃথিবীর যে কোন স্থান মসজিদ হোক বা নাই হোক সেখানে আমার উম্মতের লোকেরা নামাজ পড়তে পারবে এবং পানি ব্যবহারে সক্ষম না হলে মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার বিধান প্রদান করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে পৃথিবীর যে কোন স্থানের মাটিই তায়াম্মুমে ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ আমার জন্য এবং আমার উম্মতের জন্য হালাল করা হয়েছে। পূর্ববর্তি কোন নবীর জন্য তা হালাল ছিল না।
আমার অনুসারী অন্য সকল নবী রাসূলের অনুসারীদের চেয়ে অধিক হবে। অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, কিয়ামতের মহাবিচার দিবসে সমগ্র মানব গোষ্ঠির মোট একশত বিশটি কাতার হবে, তন্মধ্যে আশিটি কাতার হবে আমার উম্মতের।
আমাকে শাফায়াতে কুবরার অনুমতি দেয়া হয়েছে, ফলে কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী পরবর্তী সকলে আমার অভিমুখী হবে।
অন্য সকল নবীর ও পূর্বে আমি আমার উম্মতদের সাথে নিয়ে পুলসিরাত পার হয়ে যাব।
সকলের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করব। আবু বকর ও উমর আমার ডানে বামে থাকবে। প্রত্যেক নবীর জন্যই হাওয থাকবে তবে আমার হাওয হবে সর্বাধিক প্রশস্ত ও সর্বাধিক জাঁকজমকপূর্ণ।
লেখক : অধ্যক্ষ, জামেয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা
মুছাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।