মার্চ ৬, ২০২৬ ০৪:৩০

ফেনী-১ সবার ভাবনায় খালেদা জিয়া তৃণমূলে ভোটের হাওয়া

আরিফ আজম :
বয়স আর শারিরিক অসুস্থতায় ন্যুজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘসময় যিনি হাসপাতাল আর কারাগার এ দুইয়ে যার জীবন কাটে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি এখন সব মামলায় মুক্ত। আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ঘিরেই আশায় বুক বেঁধেছেন ফেনী-১ আসনের বাসিন্দারা। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই পৈত্রিক এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় চেয়ারপার্সনের প্রার্থীতার ব্যাপারে বিকল্প ভাবছেননা।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামীলীগের অধীনে ২০১৪ সালে বিনাভোটে খালেদা জিয়ার আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন জাসদ সাধারন সম্পাদক শিরীন আখতার। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধি হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের তখনকার সভাপতি ও বর্তমান মহানগর বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু। সেবার রাতের ভোটে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন শিরীন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ডামি ভোটে সংসদ সদস্য হন শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর আসনটি দখলে নিয়ে স্থানীয় সরকারের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা সহ সবধরনের সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের মনোনীতদের নিযুক্ত করেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ সদস্য থেকে চুনোপুঁটিরা সব আত্মগোপনে চলে যায়।
এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালে টানা ৫ বার পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, বিগতসময়ে খালেদা জিয়া নির্বাচন না করায় মজনুকে তার প্রতিনিধি করা হয়েছিল। এখন খালেদা জিয়া আগের চেয়ে অনেকাংশে সুস্থ রয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে তিনি ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তাদের আশা, খালেদা জিয়া প্রার্থী হলে নেতাকর্মী-সমর্থক সহ এলাকার মানুষ অতীতের মত তাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।

সম্প্রতি ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে এসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের আগামী নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার প্রার্থীতার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফেনীর সবচেয়ে বড় কৃতি সন্তান হলো বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এ জেলাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাদেশের তিনশ আসনের যেকোথাও নির্বাচন করতে পারবেন। অতীতের মতো ফেনী-১ আসন উনার নির্বাচনী এলাকা। তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য অবশ্যই ভােেলা খবর।
জেলা যুবদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার বলেন, বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিকল্প নেই। উনি নির্বাচন করুক, সকল নেতাকর্মীই চায়।
একই কথা বলেন ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ। তার ভাষ্য, খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তৃণমূল তার জন্য কাজ করবে।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া ভোট করবেন। দলে এখনো তার বিকল্প ভাবা হচ্ছেনা। শারিরিক কারনে উনি অংশ নিতে না পারলে তার পরিবারের কোন সদস্য অংশ নিবেন এটাই স্বাভাবিক। তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও প্রত্যাশা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মা, আমাদের নেত্রী। আমরা দোয়া করি তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিবেন। আমরা উনার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন