ফেনী সরকারি কলেজে ফ্যাসিবাদি আমলের ১৫ বছর (শেষ পর্ব)
সময় রিপোর্ট : ফেনী সরকারি কলেজে পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরে লুটপাটের মহোৎসব চলেছে। সরকারি দলের নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে নজিরবিহীন এ লুটপাটে সহযোগী তৎসময়ের অধ্যক্ষগণ সহ শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট। নামে-বেনামে বিল-ভাউচার করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ইতিমধ্যে অডিট আপত্তির মুখে কয়েকজন প্রাক্তণ অধ্যক্ষ টাকা ফেরত দিতেও বাধ্য হয়েছেন। দৈনিক ফেনীর সময় টীম এর অনুসন্ধানে এমন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে। আজ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের শেষ পর্ব।
বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে
কোটি কোটি টাকা লোপাট
ফেনী সরকারি কলেজে বধ্যভূমি নির্মাণে দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা টাকায় শতবর্ষী প্রাচীন এ বিদ্যাপিঠে এটি নির্মাণ করা হয়। এতে করে একদিকে যেমন কলেজের জায়গা অপচয় হয়েছে অন্যদিকে সরকারি বিপুল অর্থও খেয়ালখুশিমত হরিলুট হয়েছে। প্রশাসন ও রাজনীতিক নেতাদের সমন্বয়ে কয়েকজন সাংবাদিক বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকায় ব্যয়ভার নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে সাহস করেনি।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে সরকারি কলেজের বধ্যভূমির ডোবায় বালু ভরাট করে ৬১.৫২৫ বর্গফুটের জায়গায় ১৯,৬১৭ বর্গফুট আয়তনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এতে ৪০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ৩টি দেয়াল, ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট প্লাজা লেভেল, ৬টি স্ট্রিং সমন্বলিত ঝুলন্ত পোস্ট এবং পানির ধারা, ৫ ধাপ বিশিষ্ট বসার স্থান সহ একটি উন্মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। বধ্যভূমির ইতিহাস খচিত ছোট ছোট ৪টি স্মারক স্তম্ভ, বধ্যভূমি এলাকায় আগত মানুষদের জন্য তিনটি বসার স্থান, জাতীয় পতাকা, পানির ড্রেনেজ, সবুজায়ন ও আলোকায়ন করা হয়। প্রকল্পের মধ্যে সীমানা প্রাচীর সৌন্দর্যবর্ধনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৬৩ লাখ, ফেনী সরকারি কলেজের উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫০ লাখ, ফেনী পৌরসভা থেকে ২৩ লাখ এবং সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ২০ লাখ টাকা নেয়া হয়। এছাড়া কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে ফেনী সরকারি কলেজ আঙিনায় বধ্যভূমি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান এই উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়ন করেন পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পালকে আহবায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মাসুদুর রহমানকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। কমিটিতে ছিলেন সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, আওয়ামীলীগ দলীয় জনপ্রতিনিধি পৌরসভার তৎকালীন মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল মোতালেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, সময় টিভির সাংবাদিক বখতেয়ার ইসলাম মুন্না ও দৈনিক ফেনী সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী, ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহমেদ তপু।
কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করায় ১৪০ শতক জায়গা ব্যবহার হয়েছে। অথচ এই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের স্থান সংকুলান কেটে যেতো।
পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মো: বাতেন পৌরসভার তহবিল থেকে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী দীপ্ত দাস গুপ্তর মতে, ফেনী সরকারি কলেজে যে আদলে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে তাতে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করলে সঠিক ব্যয় নির্ধারণ করা যাবে।
ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা কলেজের ফান্ড থেকে দেয়া হয়েছে। এটি কিভাবে দেয়া হয়েছে সেটি পূর্বের অধ্যক্ষরাই ভালো বলতে পারবেন। শুধু তাই নয়, বধ্যভূমির পুরোনো স্থাপনাকে সংরক্ষণে উদ্যোগ না নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ভবন নির্মাণ করা হলে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার ও ল্যাব সংকট দূর করা যেতো।
ঘাস কাটার নামেই
হাতানো হতো টাকা
ফেনী কলেজের একমাত্র খেলার মাঠ অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থিত। বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই মাঠটি খেলার অনুপযোগী থাকে। অথচ ঘাস কাটার নামেই এই খাতে ব্যয় দেখানো হয় প্রতিমাসে ৩২ হাজার টাকা। এক বছরে খরচ হয় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। যা বিগত তিন বছরে হয়েছে ১৭-২০ লাখ টাকার বিল-ভাউচার করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ঘাস কাটতে প্রায়শই ৮-১৫ জন শ্রমিকের বিল দেখানো হতো। যেখানে প্রতিজন শ্রমিকের ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক ধরা হতো। এতে প্রতিদিন খরচ দেখানো হতো ৬ হাজার ৪শ থেকে ৮ হাজার টাকা। তৎকালীন হিসাবরক্ষক প্রাণহরি দেবনাথের সংশ্লিষ্টতায় এসব অর্থ লোপাট হয়। অথচ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পাশ্ববর্তী ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান, কলেজ মাঠ সবসময় পরিত্যক্ত থাকে। ঘাস বড় হওয়ায় পানি জমে থাকে। মাঠটি খেলার উপযোগী নয়।
৬ হাজার শিক্ষার্থীর ব্যাজ-আইডি কার্ড
বানাতে ব্যয় সাড়ে ৪ লাখ
২০২১-২২ সেশনে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক ডিগ্রী, ও এইচএসসি মিলিয়ে সেবার কলেজে ভর্তি হয় ৬ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। সেইবার ব্যাজ ও আইডি কার্ডের ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৫০ টাকা। অথচ সেই বছর শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় লেমেনেটিং ছাড়া আইডি কার্ড। প্রতি পিস ব্যাজের বাজার মূল্য ১০ টাকা ও কার্ডের খরচ ৩ টাকা হলে সেই খাতে ব্যয় হতে পারে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা। তাহলে প্রশ্ন জাগে বাকী ৩ লাখ ৬০ টাকা লোপাট করে কারা?
মহাপরিচালকের সাথে
সাক্ষাতে খরচ ৩ লাখ
২০২২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। তার দায়িত্বপালনকালীন সময়ে কখনো ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ কিংবা শিক্ষকগণ কখনো সাক্ষাত করেননি। অথচ তার সাথে মতবিনিময় সভার খরচ বাবদ দেখানো হয় ২ লাখ ৯২ হাজার ৬শ টাকা।
এই প্রতিবেদক তৎকালীন কর্মরত ছিল এরকম কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এরকম কোন মতবিনিময় সভাই অনুষ্ঠিত হয়নি। বরং ফেনী কলেজের একটি টিম ঢাকায় গিয়ে দেখা করে। বড়জোর সেখানে ভাড়া-খাওয়া খরচ মিলে ২০-৩০ হাজার টাকা হতে পারে।
পুকুর-ডোবা খনন-ভরাটেই
৬০ লাখ হাওয়া
কলেজের অনার্স ভবনের সামনে প্রায় ৯ হাজার বর্গফুটের ছোট মাঠটি সংস্কারের নামে ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ২৯ লাখ টাকার মাটি ভরাট করা হয়েছে মর্মে রেকর্ড রয়েছে। ২০২২ সালে ২২ লাখ ১২ হাজার ১১২ টাকা ও ২০২৩ সালে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৩২ টাকা। এছাড়া তার পূর্বের ৩-৪টি অর্থ বছরে আরো প্রায় ৩২ লাখ টাকার মাটি ভরাট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ একটু বৃষ্টি হলে এখানে পানি জমে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নামমাত্র কয়েক গাড়ি বালু ফেলে প্রতিবারই শুধু মোটা অংকের বিল করা হয়েছে। অথচ কাজের কাজ কিছুই করা হয়না। বালু কারসাজির সাথে তৎকালীন অধ্যক্ষ সহ জড়িতদের মাঝে নাম উঠে আসে কলেজের এক প্রভাষকের নাম। অধ্যক্ষদের আস্থাভাজন হয়ে খনন-ভরাটের নাটকিয়তা বরাবরই ওই প্রভাষক করে থাকেন। পুরাতন ডরমেটারির জায়গা ভরাট করতে ৪০ গাড়ি বালুর ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অথচ একাধিক শিক্ষক কর্মচারীরা বলছেন, কয়েক গাড়ী বালু ফেলেই ৪০ গাড়ীর বিল উত্তোলন করেন ওই প্রভাষক।
অপর একটি সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২৫ সালে হাসপাতাল মোড়ের ছাত্রাবাসের সামনে ২০০ ফুট বালু দিয়ে ভরাটের ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
আইসিটি বিভাগকে দেখানো হয়
শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব
আইসিটি খাতে ফেনী সরকারি কলেজে সকল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতি শিক্ষাবর্ষে সেশন ফি এর সাথে ২০ টাকা করে আদায় করা হয়। এতে বছরে অন্তত এখাতে ৪ লাখ টাকা আদায় হয়। উচ্চ মাধ্যমিক এর প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে অন্তত ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে তাদের ক্লাস নেওয়ার জন্য আইসিটি বিভাগে একজন প্রভাষক রয়েছেন। এর পাশাপাশি অনার্স প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে কিছু আইসিটি কোর্স চালু আছে। এ খাতে আদায়কৃত অর্থে একজন প্রভাষক এর পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মানি ভাতায় অন্যান্য বিভাগের তিনজন অতিথি শিক্ষকের মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলেও শিক্ষকদের মধ্যে ক্লাস নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বর্তমান অধ্যক্ষ এ খাতে টাকা আদায় বহাল রেখে অতিথি শিক্ষকদের অব্যাহতি দেয়। আইসিটি ল্যাবে এখন মাত্র ৮টি কম্পিউটার রয়েছে বলে জানা গেছে।
অধ্যক্ষ এনামুল হক খোন্দকারের ভাষ্য
‘অনিয়ম-দূর্নীতি ও অপচয়
রোধে ব্যয় কমানো হয়েছে’
অনিয়ম-দূর্নীতির ফিরিস্তি প্রসঙ্গে ফেনী সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার বলেছেন, “সকল প্রকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি সবসময় জিরো টলারেন্স পোষণ করি। আমি দায়িত্বগ্রহণের পর টাকা অপচয় রোধে অনেক খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “যে খাত থেকে বেসরকারি কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়, আমি অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর ঐ খাত প্রায় শুন্য পেয়েছিলাম। কর্মচারীদের এক মাসের বেতন দেয়ার মতো টাকাও ছিলনা। বর্তমানে কর্মচারীর সংখ্যাও পূর্বের তুলনায় বেড়েছে। আগে এই খাত থেকে প্রতিমাসে বেতন বাবদ খরচ হত ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে বেতন বাবদ খরচ হয় ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে বেসরকারি কর্মচারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেতন বৃদ্ধি করা হলে এখাতে বেতন বাবদ মাসিক খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া এ খাত থেকে কলেজের বেহাত হওয়া ভূমিগুলো পূনরুদ্ধারে চলমান মামলা পরিচালনার পেছনে একটা বিরাট এমাউন্ট নিয়মিত খরচ হচ্ছে।”
অধ্যক্ষ এনামুল হক আরো বলেন, “এহেন পরিস্থিতিতে অনেকটা বাধ্য হয়েই কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১শ টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রেও যদি দেখা যায় সব খরচ সম্পন্ন করার পর মোটামুটি কিছু টাকা উদ্বৃত্ত থাকে, পরবর্তীতে বর্ধিত ফি কমানো হবে। এখাতে বিভিন্ন কলেজে আরও বেশি ফি আদায় করা হয়। যেমন চট্টগ্রাম কলেজে এ খাতে ফি নেয়া হয় ১ হাজার ৩শ ৫০ টাকা। তাছাড়া এ বছর থেকে নূতন সরকারি পরিপত্র জারি করে অন্য আর একটি খাতে উল্লেখযোগ্য হারে ফি কমানো হয়েছে। এখন থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের উপর থেকে তাদের দুই বছরের জন্য ফি কমানো হয়েছে ৩শ টাকা, ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের তিনবছরের কোর্সের জন্য ফি কমানো হয়েছে ৫শ টাকা, অনার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের চার বৎসরের কোর্সের জন্য ফি কমানো হয়েছে ৭শ টাকা, প্রিলিমিনারি শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের দুই বছরের কোর্সের ফি কমানো হয়েছে ৩শ টাকা, মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের এক বছরের কোর্সের ক্ষেত্রে ফি কমানো হয়েছে ১শ টাকা। এভাবে বেশ কিছু কমানো হয়েছে। যার ফলে একটা খাতে ১শ টাকা বাড়ালেও শিক্ষার্থীদের ওপর তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। আবার এ খাতের অর্থ দ্বারা ক্যাম্পাসের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।”