মার্চ ৬, ২০২৬ ০৫:৪৬

ফেনী-৩ আসনে মিন্টু পরিবার ঘিরেই বিএনপির হিসাবনিকাশ

আরিফ আজম :
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে তৃণমূলে ততই ভোটের আলাপ বেড়ে চলেছে। বিএনপি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকায় আগামী নির্বাচনে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন এনিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষন। অনেকে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও বিএনপির থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর পরিবার ঘিরেই হিসাব কষছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি এ আসনে ১৯৯৬ সাল থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহবুবুল আলম তারা। ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী রহিম উল্যাহ, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে মহাজোট থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, ২০১৪ ও ২০২৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছেন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন। ফলে আগামী নির্বাচনেও বিএনপির প্রভাবশালী এ নেতার পরিবারের সদস্যরা ঘুরে ফিরে আলোচনায় রয়েছেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচন করার ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ না খোলায় এনিয়ে বিপাকে রয়েছেন দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। অনেকে মনে করছেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বড় ছেলে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ধানের শীষ নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে লড়েছেন। এ কারনে তার ফেনীতে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নেই। তবে এবারও ছোট ভাই আকবরের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিকল্প হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টুর অপর দুই ছেলে তাফসির আউয়াল ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের নতুন সভাপতি তাজওয়ার আউয়ালও আলোচনায় রয়েছেন। তাজওয়ার দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত দাগনভূঞার আলহাজ সফিউল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া তার স্ত্রী উইমেনস এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল প্রার্থী হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ইতিমধ্যে তিনি সিইসির কাছে নারীদের জন্য ১শ আসন রাখার দাবী জানানোর পর নির্বাচনের মাঠে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জয়নাল আবদীন বাবলুর বলুর মতে, দল থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর কথাই পরস্পর শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে উনি মুখ না খুললেও সম্প্রতি পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে নন বলে জানিয়েছিলেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক ফেনীর সময় কে বলেন, “হাইকমান্ড অনেক বিশ্লেষন করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দেয়া হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞার উন্নয়নমূলক, সামাজিক ও শিক্ষা বিস্তারে অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উনার পছন্দ সব জায়গায় প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক। আশা করি এমন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেয়া দরকার যিনি ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন।”
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল ফেনীর সময় কে বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর পছন্দের উপর ফেনী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থীতা রয়েছেন।”

চষে বেড়াচ্ছেন ডা. মানিক

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা। নির্যাতনের খড়গ থেকে বাদ যাননি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি। প্রায় ৮০টি মামলায় কারাগার-আদালতের কাঠগড়ায় কাটিয়েছেন বেশ কয়েকবছর।

ছাত্র সংগঠন থেকে বিদায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই ফেনী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান ডা. মানিক। ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের অধীনে একরতফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থী হয়েও নির্বাচনে অংশ নেননি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগে তিনি মাঠে নেমে পড়েছেন। দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় করছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারি সেক্রেটারী ডা. মানিক। দাগনভূঞ্জয় জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এক পথসভায় ডা. ফখরুদ্দীন মানিককে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে দলীয় নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হয়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ৯টি ও দাগনভূঞা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং দুই উপজেলার দুই পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লায় চষে বেড়িয়েছেন। সপ্তাহের দুইএকদিন কোন না কোন এলাকায় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

ডা, মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক দূর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন