মার্চ ৬, ২০২৬ ০৫:৪৭

বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬ ক্ষনজন্মা খালেদা জিয়ার চিরবিদায়

নিজস্ব প্রতিনিধি :

শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২৬। বেশ ভালোই কেটেছিলো ২০২৫। কিন্তু বছরের শেষ দিনে এসে চিরবিদায় নিয়েছেন দেশের ইতিহাসে ক্ষনজন্মা রাজনীতিবিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন, ফেনীর মেয়ে বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হন তিনি। শেষ বিদায়ে তিনি পেয়েছেন দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। জন্মস্থান না হলেও জীবদ্দশায় পৈত্রিক জেলা ফেনীর প্রতি ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার অফুরন্ত ভালোবাসা।


দেশ-মাটি ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিবিড় বন্ধন ছিন্ন করে চিরবিদায় নিলেন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা এই নেত্রী মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৭৯ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৩ নভেম্বর শেষ দফায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই কার্যত খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটল গৃহবধূ থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা দ্যুতি ছড়ানো গৌরবময় একটি অধ্যায়ের।


গতকাল জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দলে দলে আসেন মানুষ। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বেলা ৩টা বেজে ৩ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। বেলা ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা সম্পন্ন হয়। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার পর সংসদ ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। দাফনের প্রক্রিয়া চলার সময় তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শামিলা রহমান, তাঁর বড় মেয়ে জাহিয়া রহমান, ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির নেতা–কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাঁড়িয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও অন্যরা।


এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজাস্থলে উপস্থিত হয়ে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তাঁর ছেলে তারেক রহমান। জানাজায় উপস্থিত বিপুল মানুষের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দোয়া করবেন। আল্লাহতায়ালা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন