মার্চ ৬, ২০২৬ ০৫:৪৭

দাগনভূঞায় টপসয়েল রক্ষায় অভিযান চলছে

আজহারুল হক :

বর্তমানে চলছে শুষ্ক মৌসুম, শেষ ধান কাটা। আর এই সুযোগই খুঁজে মাটির কারবারে জড়িতরা। দিনে সুবিধা না করতে পারলেও রাতে চালায় তারা মাটি বহনকারী গাড়ি। রাত যত গভীর হয় ততই তাদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। রাত ১১টার পর সময় সুযোগ করে গাড়ি চালানো শুরু করে।


বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু দপ্তরের অসাধু লোকদের সাথে সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন করে যোগাযোগ রাখে। প্রতিটি রাস্তার মোড়ে থাকে তাদের নিজস্ব লোক। আবার বেশিরভাগ ব্যবসায়ীদের থাকে রাজনৈতিক পরিচয়। সরকার ফসলি জমির টপসয়েল রক্ষায় আইন করেছে। আইন বাস্তবায়নে মাঠে নিয়োজিত করেছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। রয়েছে কঠোর নির্দেশনাও। তারই প্রেক্ষিতে রাতেই অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। শীত, বৃষ্টি ও গরম উপেক্ষা করে ছুটে চলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসা জায়গাসমূহে। সাধারণত মাটি ব্যবসায়ের সাথে জড়িতরা কাটার স্থানে থাকেনা তারা আশেপাশে নিরাপদ জায়গায় থেকে পরিচালনা করে তাদের বেআইনি কারবার। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে এস্কেভেটর ও ট্রাক ড্রাইভাররাও গাড়ি বন্ধ করে পালিয়ে যায়। নিয়মিত টপসয়েল রক্ষার অংশ হিসেবে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত কনকনে শীত উপেক্ষা করে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীদুল আলম।


ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টা থেকে শুরু করে ২টা পর্যন্ত রাজাপুর, সিন্দুরপুর ও রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে চালাক ব্যবসায়ীরা অভিযানের খবর পেয়ে ড্রাইভারসহ সটকে পড়ে। এসময় বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা ৪টি ট্রাক্টর জব্দ করে ভূমি অফিসে নিয়ে আসা হয়। আর এস্কেভেটর নিয়ে আসা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো অকেজো করে দেয়া হয়।


এ প্রসঙ্গে শাহীদুল আলম বলেন, গত রাতের অভিযানে আমরা ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে মাটি কাটার সাথে জড়িতদের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউএলএও যারা আছে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টপসয়েল রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে পুলিশ ও আনসারের একটি চৌকস টিম সহায়তা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন