(মজনু দম্পতির আয় বছরেকোটি টাকা)
নিজস্ব প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার হাসি পেশায় ব্যবসায়ী। এ দম্পতির বছরে আয় কোটি টাকা। মজনু মেসার্স ইমা এন্টারপ্রাইজ, মা এন্টারপ্রাইজ ও মায়াজ ট্রেডিং কর্পোরেশন নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী। তার স্ত্রী হাসির মাশফী ইলেকট্রনিক্সের স্বত্ত্বাধিকারী। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া হলফনামায় এ তথ্য জানা গেছে।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, মজনু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৮শ ৮৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। একই রিটার্নে মোট ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৩ টাকা সম্পদ ও প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ২শ ৬৫ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর শান্তিনগরে ছয়তলা বাড়ির একটি অংশ ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা, জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে ১০ হাজার ১৬২ বর্গফুটের দোকান ১২ লাখ ৮ হাজার টাকা, ঢাকার শান্তিনগরে কনকর্ড মার্কেটের টুইন টাওয়ারে ১৯ দশমিক ৫৭ বর্গমিটারের দোকান ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ছাগলনাইয়ায় ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার জমি, রাজধানীর পল্টনে চায়না টাউন মার্কেটে ৩৫০ দশমিক ৫৮ বর্গফুটের দোকান ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩শ ২০ টাকা, ঢাকার শান্তিনগরে ১ হাজার ৫শ ১৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ১৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, দক্ষিণ শাহজাহানপুরে ১ হাজার ৫৪৭ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং একই এলাকায় ১ হাজার ৫শ ১৪ বর্গফুটের আরেকটি ফ্ল্যাটের ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
মজনুর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকা ব্যাংকে জমা ৩ লাখ টাকা, ইউসিবিএল ব্যাংকে এফডিআর ২০ লাখ, নোহা মাইক্রো ৩৪ লাখ, আসবাবপত্র ৯০ হাজার, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লাখ, নগদ ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩শ ২২ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬শ ৭৬ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ২০০৬ সালে ২০ আগস্ট থেকে একটি পিস্তল, একটি শটগান ও তাজা গুলি ব্যবহার করছেন, যার বাজারমূল্য ৮৬ হাজার ৩শ ৫০ টাকা। শেয়ারের বিপরীতে ঋণ রয়েছে ৫৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৩ টাকা। এছাড়া বাড়ির ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং গাড়ি ক্রয় বাবদ ঋণ দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ১১২ টাকা।
অপরদিকে হাসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৯শ ১৯ টাকা এবং প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ১ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। তার নামে স্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঢাকার জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়াম এলাকায় ১৭১ বর্গফুটের দোকান ২৪ লাখ ৮ হাজার টাকা, ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় ৬ তলা আবাসিক ভবন ১ কোটি ১১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৬ টাকা, রাজধানীর পল্টনে ৮শ ৫০ বর্গফুটের অফিস ৩৮ লাখ ৯ হাজার ১২০ টাকা এবং রাজধানীর আউটার সার্কুলার রোডের ১ হাজার ৯শ ৫৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫শ ৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯২ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মজনুর ২০ ভরি ও তার স্ত্রীর ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।
(কামালের ১৬ লাখ)
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনুযায়ী ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫শ ২ টাকার মালিক। বছরে আয় করেন ১৬ লাখ ৬২ হাজার ১শ ৯৪ টাকা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, পেশায় আইনজীবী এসএম কামালের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩শ ৫৭ টাকা ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৫ টাকা। তিনি বছরে আয় করেন ১৬ লাখ ৬২ হাজার ১শ ৯৪ টাকা। তার পরিবারের সকলেই তার উপর নির্ভরশীল, যাদের কোন আয় নেই। তার আয়ের উৎস্য বাড়ি, এপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্যান্য ভাড়া। এ খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬শ ৫৮ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত হিসেবে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩শ ৯১ টাকা, পেশা থেকে বছরে ১৩ লাখ ২৮ হাজার ১৪৫ টাকা আয় দেখানো হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা রয়েছে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৩শ ৬৩ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ২শ ৪৩ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯শ ৩২ টাকার। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট), ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ রয়েছে ২৫ লাখ ২০ হাজার ৮শ ১৯ টাকা। তার বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল যানের অধিগ্রহণকালীন মূল্য ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি রয়েছে ২ লাখ টাকা, অকৃষি জমি ১৩ লাখ টাকা। তার ৫১ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৫ টাকা মূল্যের ২টি বাড়ি ও এপার্টমেন্ট রয়েছে। বছরে তিনি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪শ ৩৯ টাকা আয়কর প্রদান করেন। তার একক বা যৌথ ঋণ, ঋণ খেলাপি কিংবা দেনা নেই।