মার্চ ৬, ২০২৬ ০৫:৪৭

নির্বাচন কমিশনের বড়চ্যালেঞ্জ নিরপেক্ষ নির্বাচন

ড. খন্দকার নাজমুল হক

বিগত ৮ আগষ্ট ২০২৪ ইং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্ঠা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্ঠা পরিষদ। ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, শারমিন মুরশিদ, ফারুকী আযম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুপ্রদিপ চাকমা, বিধান রঞ্জন রায়, আ.ফ.ম খালিদ হাসান, ফরিদা আখতার, নুরজাহান বেগম, মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, রিয়াজ রহমান, খোদাবক্স প্রমুখ সরকারের অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩৬ জুলাই রক্তাক্ত বিপ্লব করেছিল বৈসম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্ররা। এ উপদেষ্ঠা পরিষদ জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছিল কিনা ১২ ফেব্রুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে দেখা যাবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার কোন অভিতা নেই। স্বাধীনতার ৫৪বছর দেশপ্রেমিক জনগণ ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনের জন্যই জুলাই বিপ্লবীদের নির্বাচিত করতে হবে। ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করতে হলে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য। জনগণ এ দেশকে আর জুলাই বিপ্লবের পূর্বের অবস্থার মতো কোন পাতানো নির্বাচন দেখতে চায়না। জনগণ ভোটাধিকার নিশ্চিত চায় এবং প্রচলিত ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য দরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ নতুন রুপে ফিরে আসবে, এবং নতুনভাবে আধিপত্যবাদ কায়েম হবে। পতিত ফ্যাসিস্টগোষ্ঠি ও আধিপত্যবাদী শক্তি সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। এর প্রথম টার্গেট অনুসারে ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে উপদেষ্টা পরিষদের পারফরমেন্স রিভিউ করে জুলাই বিপ্লব ধারণ করে এমন ব্যক্তিদের উপদেষ্টা পরিষদে নিয়োগ দেওয়া। স্বরাস্ট্র উপদেষ্টার উচিত তারেক জিয়ার মতো সকল সকল সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, এবি পাটি, নিয়ে ১০ দলীয় জোট গঠন করে। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের ৪ দলীয় জোটের ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। ৫টি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ভুমিধস বিজয় অর্জন করেছে। জেন জি ছাত্রছাত্রীরা পুরাতন পরিবারতন্ত্র, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, আধুভাইয়ের নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। নারীরা ইনক্লুসিভ রাজনীতির দিকে ঝঁকে পড়েছে। বিএনপি জোট এবং জামায়াতের জোটকে নতুন প্রজন্মের পালস বুঝতে হবে। প্রশাসনকে একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়লে বাংলাদেশে কথনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবেনা। ১/১১ সরকারের ছত্রছায়ায় ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের গোড়াপত্তন ঘটে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ছিল দিনের ভোট রাতে, আমি ডামি, ভোট চুরির নির্বাচন। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের জন্য জুলাই বিপ্লবের উত্তরসুরীরা দুটো রাজনৈতিক জোটে বিভক্ত হয়েছে। জাতী আশাকরে উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টার মাহফুজ আনাম তারেক জিয়ার গাঁড়ে উঠে বসেছেন। তারেক জিয়াকে কুপোকাত করতে বাম সংগঠন ও ভারতের তাবেদার লেন্দুপ দর্জিরা বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে মো. নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছিলেন। এখন উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই বিপ্লবীরা নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্টেকহোল্ডারগণ দিন দিন একটি বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। জাতী খুবই আতংকিত আধো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি? ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে, রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ন নেতারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পতিত স্বৈরাচারের দোষরগন সংসদ নির্বাচনে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসন, আমলা, সুশীল সমাজের উচিত দৃটো জোটের মধ্যে বিভেদ না লাগিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্বরাস্ট্র উপদেষ্টার উচিত তারেক জিয়ার মতো সকল সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, এভাবে বিএনপির নিয়ন্ত্রনে চলে যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন বিভাগ। সারাদেশে বিএনপি বা ছাত্র ইউনিয়নের কমিটিতে ছিলেন এমন ব্যক্তিরা এ্যাটনী জেনারেল অফিস, জেলায় পিপি, এপিপি পদে নিয়োগ লাভ করে। সচিবালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসনের অধিকাংশ পদে বিএনপিপন্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরগণ স্বপদে বহাল আছেন। বিপ্লব ধারন করে এমন আমলাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে পদায়না না করায় গোপনে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের বিএনপিকে সহযোগীতা করে আসছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে মিডিয়ার ভারতীয় তাবেদারগোষ্ঠি ও টকশোর বিশেষজ্ঞরা প্রপাগান্ডা চালিয়ে ড. ইউনুস সরকারকে বেকাদায় ফেলার পাঁয়তারা করছে। পুলিশবাহিনী গণহত্যাকারীদের গ্রেফতার করছে না, পুলিশ আইনশৃংখলার উন্নয়নে তেমন কার্যকর ভুমিকা রাখছেনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের পদায়ন করা হয়েছে, তারা প্রিসাইডিং অফিসার হবে, যার ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বিএনপির আমির খসরু ও সালাউদ্দিনের ভারতের তাবেদার লেন্দুপ দর্জির ভুমিকার কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের লিডারশীপে ১০ দলীয় একটা শক্তিশালী জোট সৃষ্টি হচ্ছে। তারেক রহমানের উচিত হবে বিএনপিতে ভারতের তাবেদার লিডারদের বাহিরে রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির ঐক্য জুলাই বিপ্লবীদের ভোটের যুদ্ধে এগিয়ে রাখবে। বেগম জিয়া ফ্যাসিবাদের রোশানলে পড়ে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তিনি ১/১১ সরকারের সাথে আপোষ করেন নাই, বেগম খালেদা জিয়া ভারতের তাবেদারী করেন নাই। তিনি একজন দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। তাঁর মৃত্যুতে একজন আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদ বিরোধী নেতার প্রস্থান ঘটলো। তারেক জিয়া ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মালা গাঁথার জন্য মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি, ভিপি নুর, রেদোয়ান আহমদ, সাইফুল হক ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলেছে।
স্বাধীনতার ৫৪বছর দেশপ্রেমিক জনগণ ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনের জন্য জুলাই বিপ্লবীদের নির্বাচিত করতে হবে। ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করতে হলে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য। দেশের জনগণ এ দেশকে আর জুলাই বিপ্লবের পূর্বের অবস্থায় দেখতে চায়না। জনগণ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য দরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ নতুন রুপে ফিরে আসবে, নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে। পতিত ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। তাদের চক্রান্ত রুখে দেয়ার জন্য আধিপত্যবাদ বিরোধী দেশপ্রেমিক জনতার ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আধিপত্যবাদ বিরোধী ইনকিলাব মেঞ্চের ওসমান হাদীকে ফ্যসিস্টগোষ্টির মদদে হত্যা করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছে, তার প্রমান মানিক মিয়া এভিনিউ এর বিশাল জানাজা। ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকালে ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উচিত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা। প্রশাসন, আমলা, সুশীল সমাজের উচিত দৃটো জোটের মধ্যে বিভেদ না লাগিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্বরাস্ট্র উপদেষ্টার উচিত তারেক জিয়ার মতো সকল সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
লেখক : গবেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন