মার্চ ৬, ২০২৬ ০৮:২৮

পরশুরামে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামার দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

পরশুরাম প্রতিনিধি:

পরিবেশ নীতি উপেক্ষা করে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামার এবং অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ। 

ভূক্তভোগীরা এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।তাদের অভিযোগ, এসব পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে বসতবাড়িগুলোতে বসবাস করতে পারছেন না তারা। 

‎‎সরেজমিনে জানা গেছে,পৌর এলাকার বাসপদুয়ার পশ্চিমপাড়া গ্রামের রামগতি খালের পাশ ঘেঁষে প্রায় দশ বছর আগে একটি বয়লার মুরগির খামার স্থাপন করেন মুছা মিয়া। পরবর্তীতে সেটিকে লেয়ার মুরগির খামারে রুপান্তর করা হয়। রামগতি খালটির দৈর্ঘ্য কহুয়া নদী থেকে বাসপদুয়ার কলাবাগান পর্যন্ত  প্রায় তিন কিলোমিটার।খালের দুই পাশে বাসপদুয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রায় দুইশ পরিবারের বসবাস।খামারের বর্জ্যে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খাল থেকে  প্রকট দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়ছে।  

‎‎পোল্ট্রি ফার্মের পাশেই বাড়ি শিউলি বেগমের। তিনি বলেন, ‘তীব্র দুর্গন্ধে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েছি, অন্যত্র চলে যাওয়ার সক্ষমতা না থাকায় অসহায়ের মতো হয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য মাছের খামারের জন্য বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

‎‎আরেক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘খামারের শেডটিতে ৫ হাজারের বেশি মুরগি আছে। সেসব মুরগির বর্জ্য জমিয়ে তারা বিক্রি করে। দুর্গন্ধে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে গ্রামের পরিবেশ।

‎‎‎স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম,সামছুল হক মজুমদার,মনির আহমেদসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন,খামারের বর্জ্য ও মৃত মুরগি নালায় ও খালে ফেলার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে, খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মসজিদে আগত মুসল্লিরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।খামারের মালিক মূসা মিয়াকে একাধিকবার বিষয়টি জানালেও তিনি প্রতিবারই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেননি।

‎‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত পপুলার পোল্ট্রি খামারের মালিক মুসা মিয়া জানান,দ্রুত খালের ময়লা ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে।  এছাড়া বর্জ্য অপসারণের জন্য একটি গ্যাস চেম্বার নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে।তিনি বলেন,আমি এলাকাবাসীর ক্ষতি করে খামার চালানোর মতো মানুষ না। মানুষের সুবিধার্থে পরিবেশ উপযোগী করা হবে। 

‎‎পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া সুলতানা অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে ও পরিবেশ দূষণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন