সদর প্রতিনিধি :
ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে প্রকাশ্য দিবালোকেই কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনদুপুরে নির্বিচারে মাটিকাটা হলেও সংশ্লিষ্টরা বেখবর। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।
গতকাল বিকালে সরেজমিন দেখা গেছে, মোটবী ইউনিয়নের ইজ্জতপুর এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। অন্যত্র অসংখ্য জায়গা ভরাট করতে সারিসারি পিকআপ ভর্তি করে নেয়া হচ্ছে। প্রতি গাড়ি বাবদ নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ২শ টাকা। এলাকায় প্রশাসনের অভিযান পাহারা দিতে মোড়ে মোড়ে পাহারা বসানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাটি পরিবহনের কারনে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে চান না।
তারা আারো জানান, প্রশাসন বেশিরভাগই রাতে অভিযান করেন। ফলে সুচতুর মাটি কারবারিরা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে প্রশাসনের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনে অপরাধ বলা হলেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা নামমাত্র গুটি কয়েক অভিযান চালিয়ে দায় সারেন।
জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২-এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই কাজ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণ জানান, কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা জানান, মাটিকাটা রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় মাটি কাটার বিষয়টি অবগত নন।