মার্চ ৬, ২০২৬ ০৫:৪৬

সোনাগাজীতে মহিলা জামায়াতের কুরআন ক্লাসে যুবদলের বাধা ও লাঞ্চিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সোনাগাজীতে মহিলা জামায়াতের আয়োজনে একটি কুরআন শিক্ষার ক্লাসে পৌর যুবদল নেতা নুর আলম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাধা দিয়ে মহিলা কর্মীদের লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভার চর গণেশ এলাকায় জামায়াত নেতা আবুল কাশেমের বাড়িতে এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তৎক্ষনিক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।


স্থানীয় লোকজন ও দলীয় সূত্র জানায়, সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওর্য়াড়ের চর গনেশ এলাকায় নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে আবুল কাশেমের বাড়িতে আশপাশের নারীদের নিয়ে মহিলা জামায়াতের একটি কুরআন শিক্ষার ক্লাস চলছিল। এসময় হঠাৎ করে স্থানীয় যুবদল নেতা নুর আলম জিকু ও তাঁর স্ত্রী বিনা অনুমতিতে কুরআন শিক্ষার কক্ষে ঢুকার চেষ্টা করে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি অপচেষ্টা চালিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।


উপস্থিত মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা শুধু আমাদের নিয়মিত কুরআন ক্লাস পরিচালনা করছিলাম। সেখানে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না। যুবদল নেতা নুর আলম হঠাৎ করে তাঁর স্ত্রী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে একজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন আঁচাড় দিয়ে ভেঙে মহিলা জামায়াতের কর্মীদের লাঞ্চিত করে।
ঘটনার পর স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নূর নবী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি বলেন,“ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলে বিষয়টি তখনই মীমাংসা করার চেষ্টা করি।”


যুবদল নেতারা অভিযোগ করেন, কুরআন ক্লাসের আড়ালে জামায়াতের নারীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন এবং গ্রামের সহজ-সরল নারীদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের ভয় দেখাচ্ছেন।


 এ বিষয়ে নুর আলম জিকুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তারা কুরআনের নামে ভোট চাইতে ছিলো। কুরআন কারো একার সম্পত্তি না। কুরআনের নামে ভোট চাইলেও একজন পুরুষ মানুষ নারীদের প্রোগ্রামে এভাবে বাধা দিতে পারেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


এ ব্যাপারে সোনাগাজী পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. কালিম উল্যাহ বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। নির্বাচনের আগে তারা আমাদের কর্মীদের সাথে এমন আচারণ করলে, কি ভাবে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে। আমরা স¦অবস্থানের রাজনীতি চাই। পেশিশক্তির অবস্থান চাই না। জেলা ও কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন, সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শোর চিৎকার শুনে যুবদল নেতা নুর আলম জিকুসহ আমরা কয়েকজন সেখানে গিয়ে ছিলাম। মহিলা দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমরা সমাধান করে দিই।


জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সেখানেই সমাধান করে এসেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন