মার্চ ৬, ২০২৬ ০৪:৩০

পরশুরামে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধে চর কাটছে মাটি খেকোরা, ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ ও জনপদ

পরশুরাম প্রতিনিধি :

পরশুরাম উপজেলার কহুয়া নদীর ভেতরের অংশে একেক দিন একেক  জায়গায় সুযোগ বুঝে নদীর বেড়িবাঁধের সংলগ্ন ভেতরের চরের অংশ থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে একটি মাটিখেকো চক্র। এতে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি সোমবার গভীর রাতে পরশুরাম উপজেলার বেড়াবাড়িয়া কালাপোল স্টিল ব্রিজের দক্ষিণ পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ভেতরের অংশ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এ অবৈধ মাটি উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


এরই ধারাবাহিকতায় একই কৌশলে সাতকুচিয়া এলাকার সোলমানের বাড়ির পাশের কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ভেতরের অংশ থেকে গতকাল  রাতেও প্রায় ১০–১২ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যায় মাটিখেকো চক্র। এতে করে বেড়িবাঁধের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বন্যার শুরুতে আবারও নদীর বাঁধ ঝুঁকি পূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেড়িবাঁধের চর কেটে মাটি কাটার  ফলে সামনে  বর্ষার মৌসুমে নদী ভাঙন ও আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কা বেড়ে গেছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে  দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে মাটিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন স্থানে বেড়িবাঁধের ভিতরে  মাটি কেটে নিয়ে যায়। এভাবে মাটি কাটা হলে সরকারের বড়ো বড়ো প্রকল্প ভেস্তে যাবে।


স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বেড়িবাঁধেরর ভালো ভিতরে চর  রক্ষায় নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া সুলতানা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে মাটি কাটার খবর পাওয়া যায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়। এবং অভিযান ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন