মার্চ ৬, ২০২৬ ০৭:০৪

মহিপালে গণঅভুত্থানে ছাত্র হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ফেনী শহরের মহিপালে ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুমকে গুলি করে হত্যা মামলায় পতিত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বুধবার বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।


ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোন মামলার চার্জশিট গ্রহণ করলো আদালত। এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ১৭১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আলমগীর হোসেন।
মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, মামলায় ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৬৫ জনসহ ২২১ জনকে বিবাদী করা হয়। এরমধ্যে তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ১০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।


পুলিশ সুপার অফিস সূত্র জানায়, ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। এসব মামলায় দুই হাজার ১৯৯ জন এজাহারনামীয় ও আরও ৪ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তারাই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখানে কে কোন রাজনৈতিক দলের তা বিবেচনা করা হয়নি।


এর আগে ২০২৪ বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।


এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ, আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


এ মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিয়া উদ্দিন বাবলুর নাম রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন