শহর প্রতিনিধি :
ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের হাতে প্রথম সেমিস্টারের অর্ধশত শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। বুধবার রাত ২টার দিকে ইনস্টিটিউটের মোহাম্মদ আলী শাহীন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
র্যাগিংয়ে চতুর্থ সেমিস্টারের ১০ জন প্রত্যক্ষ ও দুই থেকে তিনজনের সমর্থন অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন জড়িত। এরমধ্যে সরাসরি জড়িত থাকা অর্ণব দাস তূর্য ও জুনায়েদ আকিব ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। তারা একই কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মুশফিকুর রহমান ও সাজ্জাদুর রহমান সিফাতের অনুসারী শিক্ষার্থী সূত্র জানা যায়, বুধবার রাতে এক শিক্ষার্থীর জন্মদিনে কেক কাটার আয়োজন করে চতুর্থ সেমিস্টারের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা থাকায় প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা আওয়াজ না করতে অনুরোধ করলে রাত ২টার দিকে ২শ ১৭নম্বর কক্ষের কমনরুমে নিয়ে লিয়ন দরজায় আঘাত করে। এসময় বাধন আঘাত করে কয়েকজনকে। ফারদিন, রায়হান, মুহাইমিন, আজিম, অর্ণব দাস, রুপম চাকমা, সোহাগ, ইশতিয়াক ও রাফিও এসময় শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করে থাকে। এর মধ্যে কয়েকজনকে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে মারধর করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম সহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
র্যাগিংয়ের শিকার মেকানিকাল বিভাগের ১ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মেহেরাজ ভূঁইয়া ফেনীর সময় কে জানায়, রাত ২টায় আমরা যারা ছিলাম আমাদের রুমে এসে প্রথমে বড় ভাইরা লাথি মারছে এবং বের করে কমনরুমে নিয়ে গেছে। সেখানে আমরা যারা ১শ, ১শ ১ ও ১শ ২নং কক্ষে ছিলাম তখন আমাদের মারছে। পরে ওদের পিছনে যেতে বলে ১শ ২নং কক্ষের শিক্ষার্থীদের ডেকে মারছে। পরে আমরা জিজ্ঞেস করলে বলে আমাদের সময়ও এমন ছিল। তোরা দোষ করছ আর না এভাবে করতে হয়।”
ইলেকট্রিকাল বিভাগের শিক্ষার্থী মাশরুর হাসনাত আরিয়ান বলেন, “আমাদের কমন রুমে নিয়ে যাওয়ার সময় সবাইকে এলোপাতাড়ি বেল্ট, গামছা মোড় করা লাঠি এগুলা দিয়ে মারছিল। বেশি মারছিল বাধন, ফারদিন, অর্ণব ও আজিম ভাই। মুশফিক ভাই উস্কানিদাতা। তবে মূল সিন্ডিকেটে চতুর্থ সেমিস্টারের সবাই আছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, “রাতে যখন আমাদেরকে ৯৯৯ মাধ্যমে জানানোর পর আমরা টিম পাঠাই। টিম জানায় যে একজনের জন্মদিন ছিল। সে জন্মদিনে পার্টি করার কারণ হৈ চৈ ছিল। হৈ চৈ এর কারণে ডিষ্টার্ব হওয়ার কথা বলছিল। আজকে সকালে জানতে পারি যে ২ জন হাসপাতালে আছে, এটা জানার পর আসি। সবার সাথে কথা বলে বুঝতে পারি কেউ চাচ্ছে প্রোগ্রাম এটা হোক। আবার যাদের পরীক্ষা ছিল তারা চাইনি। একটা হাতাহাতির মত ঘটনায়।”
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নয়ন রঞ্জন ভট্টাচার্য্য ফেনীর সময় কে বলেন, “ঘটনাটা আমরা দেখতেছি। হোস্টেল সুপার ও সহকারী সুপার আছে।”