নিজস্ব প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থীতা বহাল রেখেছেন নির্বাচন কমিশন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারি সেক্রেটারী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের আপিল নামঞ্জুর হয়েছে। এতে করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানিতে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রাখে কমিশন।
এর আগে আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেন ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক। আপিল আবেদনে বলা হয়, আবদুল আউয়াল মিন্টুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব রয়েছে। কিন্তু হলফনামায় তিনি সেই তথ্য গোপন করেছেন। হলফনামায় মিন্টু দাবি করেছেন ৯ ডিসেম্বর তিনি তার মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেছেন। যদিও তার স্বপক্ষে কোনো তথ্য দেননি। কিন্তু মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে আবদুল আউয়াল মিন্টু গত ৪ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডে গেছেন। ১৫ ডিসেম্বর থাইল্যান্ড থেকে ফিরেছেনও মার্কিন পার্সপোর্ট ব্যবহার করে। ৯ ডিসেম্বর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করে থাকলে এটা সম্ভব ছিল না।
আপিলে আরও বলা হয়, হলফনামায় বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্যও গোপন করেছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই অভিযোগটি গৃহীত হয়নি। ফলে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে এবং তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
‘সত্যের জয় হবেই’
নির্বাচন কমিশনে আপিলেও মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি স্ট্যাটাস দিয়ে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
মিন্টু লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মনোনয়নের বিরুদ্ধে আনা ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক আপিল খারিজ করেছেন ইলেকশন কমিশন। আমার প্রতিপক্ষরা সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে এই আপিল করে আমাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত সকল শাসনমলের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত মর্যাদা এবং স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। আমি এই দেশের নাগরিক না হয়ে কোথায় যাব? এই মাটির ওপর আমার অধিকার থাকবে না কেন। আমি সর্বদা আমার দেশের মানুষের ওপর বিশ্বাস এবং আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছি, আর সেই কারণেই আজ এই নির্বাচনী লড়াইয়ে এই বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে। আপনাদের অকৃত্রিম সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য আমি আবারও সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার প্রতিপক্ষ আবারো আমাকে সাহায্য করলেন প্রমাণ করতে যে সত্যের জয় হবেই। ভোটের মাঠে দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ্।”